

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে মানিকগঞ্জের এক তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ৩৫ হাজার টাকায় নিষ্পত্তি করেছেন চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য দুলাল ফকির। অভিযোগ রয়েছে আদায়কৃত অর্থও নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে তিনি।
শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে ধর্ষণের ঘটনাটি জরিমানার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কথা নিশ্চিত করেছেন বিএনপি নেতা দুলাল ফকির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১০ জুন) মানিকগঞ্জ থেকে পাথরঘাটা উপজেলায় যাওয়ার পথে রাত ১২টার দিকে ভুক্তভোগী তরুণীকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বালিপাড়ায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চরবলেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও অটো চালক রুবেল মৃধা।
পরে রাত ২টার দিকে ওই তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ভুক্তভোগী তরুণীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরের দিন বুধবার সকালে এক সালিসে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল ফকির অভিযুক্ত রুবেলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। রুবেল ৩৫ হাজার টাকা দিলে তিনি রুবেলকে ছেড়ে দেন।
তবে সালিশের পর থেকে ভুক্তভোগী তরুণীর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনার দিন এক ভিডিও বার্তায় ভুক্তভোগী তরুণী জানান, মঙ্গলবার সকালে পাথরঘাটায় প্রেমিকের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মানিকগঞ্জ থেকে বাসে করে রওনা দেন তিন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাস থেকে পিরোজপুরে নামিয়ে দিলে রাত বেশি হওয়ায় পাথরঘাটায় আর যাওয়া হয়নি তার। পরে রাত ১২টার দিকে অটো চালক রুবেলের সঙ্গে দেখা হয় তার।
রুবেল তাকে বলেন, তার বাসায় তার মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই রয়েছেন। সেখানে আমি রাতটা কাটিয়ে দিতে পারবো। অন্যকোনো উপায় না থাকায় আমি তার সাথে তার বাসায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে আমি বাড়ির দরজার পাশে বসে থাকি। কিছুক্ষণ পরে রুবেল এসে আমার সাথে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করলে আমি পালানোর চেষ্টা করি।
পরে আমাকে ধরে জোরাজোরি করলে আমি চিৎকার দেই, তখন স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে।
তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার বিষয়ে বিএনপি নেতা দুলাল ফকির বলেন, আমি সকালে ঘটনাটি জানতে পেরে মীমাংসা করে ভুক্তভোগী তরুণীকে তার প্রেমিকের বাড়ি পাথরঘাটায় দিয়ে এসেছি।
ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে সাংবাদিকেরা কথা বলতে চাইলে দুলাল ফকির একদিন সময় নেন। কিন্তু তিনদিন পার হলেও ওই তরুণীর কোনো সন্ধান দিতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের কাগজটা গ্রামের বাড়ি থেকে আনা হলে প্রেমিকের সাথে তার বিয়ে হবে। বিয়ের পর আপনারা তার সাথে ফোনে কথা বলতে পারবেন। ওই তরুণীর বর্তমান সন্ধান চাইলে এড়িয়ে যান বিএনপির এই নেতা। এ ছাড়া মেয়েটি কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি এক এক সময় এক এক স্থানের নাম বলেন।
অভিযুক্ত রুবেল মৃধার পিতা ইউনুস মৃধা বলেন, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য দুলাল ফকিরসহ স্থানীয় কয়েকজনে টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
টাকার বিনিময়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা মীমাংসার বিষয়ে চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হাই জোমাদ্দার বলেন, এ ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে প্রমাণ পেলে উপজেলা নেতৃবৃন্দকে বলবো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু জানান, ঘটনাটি আমি লোকমুখে শুনেছি। এ বিষয় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি।
তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মীমাংসার বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বলেন, ধর্ষণচেষ্টা হয়ে থাকলে তা আপস করার কোনো সুযোগ নেই। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা গ্রহণ করা হবে।