

রাইজিং ডেক্সঃ
একই রাতেই উধাও অটো-রিকশা, ভ্যান, বিদ্যুতের তার; মাদক ও জুয়ার টাকায় সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্র।
রাজধানী ঢাকার মতো এবার বরিশাল নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই। নগরজুড়ে একের পর এক সংঘটিত হচ্ছে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদারের দাবি থাকলেও বাস্তবে থামছে না অপরাধচক্রের বেপরোয়া তৎপরতা। এতে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন নগরবাসী।

বিশেষ করে নগরীর সাগরদী এলাকাসহ আশপাশে বৈদ্যুতিক তার, অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি, গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। সর্বশেষ শনিবার (১৬ মে) গভীর রাতে সাগরদীর ঐতিহ্যবাহী জনতা স-মিল থেকে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার বিদ্যুতের সার্ভিস তার কৌশলে কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় পেশাদার চোরচক্র জড়িত। কারণ গভীর রাতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুতের তার কাটা সাধারণ চোরদের পক্ষে সম্ভব নয়। এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক মাস ধরে সাগরদী ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে অধিকাংশ ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক চোর এক রাতেই রিকশা, ভ্যানগাড়ি ও দুটি অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে গেছে—যা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। এছাড়া সম্প্রতি পিবিআই পুলিশের পরিচালকের একান্ত সচিবের বাসার তালা কেটে একটি আর-ওয়ান ফাইভ মডেলের মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরে বহু চেষ্টায় সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই এলাকায় একাধিক বাসা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ও দোকানের বৈদ্যুতিক সংযোগের তার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এত সিসি ক্যামেরা থাকার পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না চুরি?

জনতা স-মিলের ম্যানেজার স্বপন খান বলেন, “স্বমিলে চুরি হবে এটা বিশ্বাসই করা যায় না। বাজারে পাহারাদার থাকে, রাত ৩টা পর্যন্ত দোকানও খোলা থাকে। পরিকল্পিতভাবেই চুরি করা হয়েছে। এখন থেকে অতিরিক্ত পাহারাদার নিয়োগ দেওয়া হবে।”
বিশিষ্ট সমাজসেবক আহমেদ শামীম বলেন, “বর্তমানে চুরির ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবার বেড়েছে। আমরা মসজিদে মসজিদে সচেতনতার কথা বলছি, ভবনে সিসি ক্যামেরা লাগানোর অনুরোধ করছি। কিন্তু তারপরও ছিঁচকে চোরচক্র নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকার জোগান দিতেই এসব চুরি হচ্ছে। এদের অধিকাংশই নেশাগ্রস্ত। পরিবার ও এলাকাবাসীকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের তার চুরি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতায় মুহূর্তেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। মাদক ও জুয়ার কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। তারা সামনে যা পাচ্ছে তাই চুরি করছে।”
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ডিউটি অফিসার জানান, “তার চুরির বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ওই এলাকায় মাদক ও চুরির ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই চোরচক্র শনাক্ত করা সম্ভব হবে।”
এদিকে নগরীতে বাড়তে থাকা চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আতঙ্কিত নগরবাসী।