হিজলা সংবাদদাতা ॥
হিজলা উপজেলার মধ্য চর মেমানিয়া এলাকায় ‘লামিয়া ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নোমান খান (৩৮) নামের এক শ্রমিক। তিনি একই উপজেলার বাসিন্দা।
নোমানের পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও কাজে যান নোমান। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ খবর আসে, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নোমান মারা যায়।
নোমানের বাবা সিরাজ খান জানান, সকাল বেলা কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল নোমান। বিকেলে শুনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গিয়ে দেখি, আমার ছেলে আর নেই।
সহকর্মী সানোয়ার জানান, একসাথে কাজ করছিলাম। হঠাৎ নোমান টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চলে যায়। তারপর আর ফিরে আসেনি।
অন্য এক শ্রমিক মিরাজ বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনে দৌঁড়ে গিয়ে দেখি, অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে নোমান।
রাসেল নামে আরেক শ্রমিক বলেন, আমার মনে হয়েছে সে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়েছে। তবে আশেপাশে কোনো বিদ্যুতের খোলা তার ছিল না।
স্থানীয় সূত্র বলছে, উপজেলায় প্রায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই। এসব ভাটাগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয় প্রতিনিয়ত।
প্রতিবছর ২-৩ জন শ্রমিক এসব ভাটায় প্রাণ হারায়, অথচ ভাটা মালিকরা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ভাটার মালিকরা ম্যানেজমেন্ট বা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সবকিছু ‘সেটেল’ করে ফেলেন।
নোমানের মৃত্যুর পরেও এমনই চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মালিকপক্ষের লোকজন দ্রুত ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের ব্যবস্থা করতে পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্যে বরিশালের হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।