আদালতের সামনে থেকে মেয়েকে অপহরণ, উদ্ধারের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ২০:৩৩ অপরাহ্ণ
আদালতের সামনে থেকে মেয়েকে অপহরণ, উদ্ধারের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

আদালতের সামনে থেকে মেয়েকে অপহরণ, উদ্ধারের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা

নোয়াখালীতে আদালতের নির্দেশে মায়ের জিম্মায় দেয়ার পর আদালতের সামনের এলাকা থেকে ১২ বছরের এক কিশোরীকে আবারও অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েকে উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা বিবি আয়েশা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বিবি আয়েশা।

তিনি জানান, তার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা (১২) করমবক্স স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে সৌদি আরবপ্রবাসী মহিউদ্দিন সুমনের একমাত্র মেয়ে।

বিবি আয়েশার অভিযোগ, গত ১৬ জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে রনি ও তার সহযোগীরা মুক্তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ অভিযোগ করেন। পরে ডিবি পুলিশের সহায়তায় গত ১৪ আগস্ট মুক্তাকে উদ্ধার করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে একটি সেইফ হোমে রাখা হয়েছিল।

বিবি আয়েশা বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হতে বিলম্ব হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে দেরি হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত তার মেয়েকে তার জিম্মায় দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে মেয়েকে নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় কোর্টসংলগ্ন প্রেসক্লাব রোড এলাকায় রনি, আলা উদ্দিনসহ ২০ থেকে ২৫ জন যুবক তাদের পথরোধ করেন।

তার অভিযোগ, এ সময় হামলাকারীরা তাকে, তার মা, দেবর ও শ্বশুরকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে রনি ও আলা উদ্দিন ছুরি ও চাপাতি দেখিয়ে তাদের হত্যার হুমকি দেন। পরে ভয়ভীতি ও হামলার মধ্যে তার মেয়েকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়।

মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিবি আয়েশা বলেন, ‘আমার মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। যারা আমার মেয়েকে বারবার অপহরণ করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১২ বছর। তার নিরাপত্তা নিয়ে আমি চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তার চাচা আরমান অভিযোগ করেন, আদালতের সামনে তাদের ওপর হামলা ও মারধর করে মুক্তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রনিকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তার ফুফুর বাড়ি আমাদের বাড়ির কাছে হওয়ায় সেই সূত্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। আর সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই আজ আমাদের পরিবারের ওপর এমন ঘটনা ঘটেছে।’

আরমান আরও বলেন, মুক্তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকেন। এ ঘটনায় তাদের পরিবারে চরম অশান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মুক্তা সবার বড়। তাকে নিয়ে পুরো পরিবার গভীরভাবে ভেঙে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত কিশোরী জান্নাতুল মাওয়া মুক্তাকে উদ্ধার, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।