অতিবৃষ্টিতে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের বেহাল দশা, যান চলাচল ঝুঁকিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ১০, ২০২৫, ২৩:০৬ অপরাহ্ণ
মাইদুল হাসানঃ
অতিবৃষ্টির কারণে বরিশালের মহাসড়কে খানাখন্দ ও গর্ত তৈরি হয়েছে, যা যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বরিশাল-কুয়াকা মহাসড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মাঝে ইট দিয়ে মেরামত করার চেষ্টা করলেও তা টেকসই হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
এই পরিস্থিতিতে, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মহাসড়কে তিন চাকার যানের বেপরোয়া গতি এবং দূরপাল্লার গাড়ির অসুস্থ প্রতিযোগিতা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী রসিদ হাওলাদার বলেন, মহাসড়কে দূরপাল্লার পরিবহনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং বেপরোয়াগতিতে ওভার ট্রেকিংয়ের কারণে প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিনের বর্ষণে মহাসড়কটির অধিকাংশ স্থান এখন খানাখন্দ ও ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা ও ঝালকাঠি মহাসড়কের সড়ক জনপদ অফিসের সামনে, আমতলঅর মোড়, সাগরদী, রূপাতলী চত্বর, কাঁঠালতলা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন উঠে মহাসড়কের মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। ফলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যস্ততম এ মহাসড়কটি।
এ রুটে চলাচল করা পরিবহন চালক নিজাম উদ্দিন বলেন, ব্যস্ততম মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থান থেকে বিটুমিন উঠে যাওয়ার কারণে নিন্মমানের ইট বিছিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেটাও উঠে গেছে। ফলে ওইসব জায়গা এখন চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া রাস্তার বিভিন্ন স্থানে উঁচু-নিচু টিউমারের মতো ঢেউ উঠেছে, যা যানবাহনের গতিতে প্রভাব ফেলছে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাঝে মধ্যে মহাসড়কের এসব গর্তে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে নামেমাত্র ইটের টুকরা ফেলে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে ওইসব ইটের টুকরা উঠে গিয়ে আবার পুরাানো রূপে ফিরে যায় মহাসড়কের দুর্ভোগ।
এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমে এলেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে।