বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন সিকদারের কেরামতিতে পাল্টে গেল রূপাতলী বাসটার্মিনাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ২৯, ২০২৫, ২০:৪৯ অপরাহ্ণ
মাইদুল হাসানঃ
ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই অধিকাংশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের দখলকৃত প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এ কারণে নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে ওই সকল প্রতিষ্ঠান। এমনি এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসটার্মিনাল।
এই টার্মিনালের দায়িত্বকারী স্বৈরাচারের দোসররাও পলায়নের কারণে টার্মিনালটি হয়ে পরে অভিভাবকহীন। এ অবস্থায় সাধারণ মালিকদের অনুরোধে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বরিশাল সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করে। এরপরই ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে থাকে পুরো বাসটার্মিনাল। নেই কোন চাঁদাবাজি। পুরনো শ্রমিকরা ফিরে এসেছে র্টামিনালে। বাস মালিকরাও শান্তিতে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক বাস মালিক ও শ্রমিকরা।
তারা বলেন, স্বৈরাচার দলের দোসররা কখনো বাসটার্মিনালের উন্নয়ন চায়নি। তারা আধিপত্য গড়ে তোলে মালিক-শ্রমিকদের জিম্মি করে লুট-পাট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। নিজেদের আত্মীয়দের শ্রমিক বানিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ঢুকতে দিতো না টার্মিনালে। কিন্তু আজ তারা কোথায়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিকরা বলেন, জিয়া উদ্দিন সিকদার বরিশাল সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতির চেয়ারে বসার পরই আমাদের মতো অনেক পুরনো শ্রমিক তাদের কর্মস্থলে ফিরে এসেছে। আমাদের আয়ের পথ খুলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে দু-মুঠো ডাল ভাত খেতে পারি।
সরেজমিনে রূপাতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সু- শৃংঙ্খল ভাবে গাড়ি যাত্রী নিয়ে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে বের হচ্ছে। যাত্রীরাও স্বাছন্দে উঠছেন।
পটুয়াখালীগামী বাসে সবুর হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, পটুয়াখালীতে তার কর্মস্থল থাকায় প্রতিদিনই এই বাসটার্মিনাল থেকে যেতে হয়। তিনি বলেন, বিগত সরকারের যারা এই টার্মিনালে দায়িত্ব পালনের সময় শ্রমিকদের দাপট ছিল অনেক। তাদের সাথে কথা বলা যেত না। ইচ্ছেমতো বাসে যাত্রী উঠাতেন। এক টিকিট দুবারও বিক্রি করতে কাউন্টার ক্লাকরা।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর এখন তা আর নেই। শুনেছি জিয়া উদ্দিন সিকদার নামে এক বিএনপি নেতা এখন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অনেক কঠোর, তেমনি নাকি উধার মনের। তাকে মালিক ও শ্রমিকরা সবাই পছন্দ করে। তাই তার নির্দেশ তারা পালন করায় বাসটার্মিনালে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।
শুধু সবুর হোসেনই নয়, এমনি কথাগুলো বলেছেন লিমন, মাজেদ ও কবীর নামে কয়েকজন যাত্রী।
তারা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম বাসর্টামিনাল এটি। এখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। বর্তমানে এই র্টামিনালটির সু-শৃঙ্খল দেখে সত্যি খুব ভালো লেঘেছে। যা বিগত বছরগুলোতে দেখেনি। এই পরিবেশ এমনই থাকবে আমরা মনে করি।
একাধিক বাস মালিক জানান, জিয়া উদ্দিন সিকদার এই সমিতির পুরনো একজন বাস মালিক। তাকে কখনো ক্ষমতার অহামিকা দেখাতে দেখেনি। তার সাথে সব মালিকদের সু-সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর মালিক সমিতি নিয়মের ভিতরে চলছে। বিগত সভাপতিরা যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গেছেন, তার এক অংশ নেই বর্তমান সভাপতি জিয়া উদ্দিন সিকদারের ভিতরে। এই র্টামিনালে এখন কোন চাঁদাবাজি হয় না। আমরা স্বাভাবিক ভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করছি।
এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, ভালো কাজ করলে মৃত্যুর পরও মানুষ বলবেন। তাই যেখানেই দায়িত্ব পালন করি, চিন্তা করি ভালো কিছু করার। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা র্টামিনালে চাঁদাবাজিসহ অনেক অপকর্ম করে গেছে, কিন্তু আমি চাঁদাবাজিসহ ওইসব অপরাধ বন্ধ করে দিয়েছি।ভবিষ্যতেও কোন রকম চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন,আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে তরুনদের সাথে নিয়ে মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত সুন্দর বরিশাল গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।