ফরিদপুরের মধুখালীতে পূজা মন্ডপে আগুন দেয়ার সন্দেহে নির্মাণ শ্রমিক পিটিয়ে হত্যা। 

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ২০, ২০২৪, ১৪:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে পূজা মন্ডপে আগুন দেয়ার সন্দেহে নির্মাণ শ্রমিক পিটিয়ে হত্যা। 

রাকিবুল ইসলাম তুরান রিপোর্টার :ফরিদপুর 

নিহত নির্মাণ শ্রমিকরা হলেন,মধুখালী উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘোপেরঘাট গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে আশরাফুল (২১) ও তার ভাই আশাদুল (১৫)।জানা গেছে,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্মাণ শ্রমিকদের গণপিটুনিতে দেয় এলাকাবাসী।পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের নির্মাণাধীন একটি স্কুল ভবনের কক্ষে হাত-পা বেঁধে মেঝেতে ফেলে জিম্মি করে রাখা হয়।ডুমাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তপন জানান,পাঁচ গ্রাম নিয়ে সেখানে পঞ্চপল্লী অবস্থিত।এলাকাটি হিন্দুবসতি অধ্যুষিত।এর মাঝে কৃষ্ণনগর নামে এক গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের জন্য সেখানে কয়েক জন নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছিলেন।পঞ্চপল্লীর একদল মানুষ ওই নির্মাণ শ্রমিকদের পিটিয়ে আহত করে নির্মাণাধীন স্কুল ঘরে আটকে রাখে।স্কুল ভবনের দরজা, জানালা,গ্রিল ভেঙে ফেলে তারা।এ সময় বাইরে থেকে কেউ ওই গ্রামে যেতে পারেনি।সেখানে একটি কালী মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।তপতি মন্ডল নামে ওই গ্রামের এক নারী জানান,তিনি মায়ের ঘরে(কালীমন্দির)সন্ধ্যাবাতিদিচ্ছিলেন, তখন শ্রমিকরা জানালা দিয়ে দেখছিলেন কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা।তারপর আমি বাড়ি গিয়েছিলাম ঘোষি নিতে। তখন ওরা (শ্রমিকরা) রড ওঠানামা করতেছিল আর নিজেরাই বকাবাজি করতেছিল।তারপর আমি চিৎকার শুনতে পাই।এগিয়ে গিয়ে দেখি,মা একদম পুড়ে গেছে। তারপর লোকজন জড়ো হয়ে গেল।এই যা।তারপর কী হলো তা তিনি দেখেননি।এছাড়া কারা মন্দিরে আগুন দিয়েছে তাও তারা কেউ দেখেননি বলে জানান।ফরিদ পুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম বলেন, এখানে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছিলেন। উত্তেজিত জনতা ভেতরে ঢুকে তাদের লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে ও ইট দিয়ে থেতলিয়ে গুরুতর আহত করে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের জানান,এখানে পঞ্চপল্লী গ্রামে একটি কালী মন্দিরে আগুন দেওয়ার খবরে ঘটনার সূত্রপাত।গ্রামবাসীর সন্দেহ এখানে একটি নির্মাণাধীন প্রাইমারি স্কুলের নির্মাণ শ্রমিকরা আগুন দিয়েছেন।তারা এই শ্রমিকদের বেদম পিটিয়ে ও ইট দিয়ে থেতলিয়ে গুরুতর আহত করে।তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সবার অবস্থাই খারাপ।