দুর্গাসাগরে বরশিয়ালদের সুযোগ কমার অভিযোগ, টিকিট ৭ হাজার টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ২১:৪৫ অপরাহ্ণ
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘিতে মাছ ধরার জন্য টিকিটের মূল্য বাড়ানো হলেও বরশিয়ালদের সুযোগ-সুবিধা কমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত দুর্গাসাগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে টিকিট দেওয়া হয়।
বরশিয়ালদের অভিযোগ, আগে টিকিটের মূল্য তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে মূল্য বাড়লেও বরশিয়ালদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, উন্নত মাচা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সে অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি।
এ ছাড়া মাছ ধরার সময়সূচি নিয়েও বরশিয়ালদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের দাবি, আগে রাতেও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ ছিল। বর্তমানে রাতের মাছ শিকার বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা বরশিয়ালদের থাকার জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে।
দুর্গাসাগরের ৪৪ নম্বর মাচায় মাছ ধরতে আসা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ বরশিয়াল লুতফর বলেন, “আগে রাতে এখানে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ ছিল। এখন সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আমাদের অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যে টিকিটের মূল্যও বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা করা হয়েছে। আমরা শিকারিবান্ধব পরিবেশ চাই।”
এদিকে দুর্গাসাগর উন্নয়ন প্রকল্প, মাধবপাশা, বরিশালের নামে দেওয়া বড়শি দিয়ে মৎস্য শিকারের টিকিটে মাছ ধরার সময়, শর্ত ও নিয়মাবলি উল্লেখ রয়েছে।
টিকিটে অনুমোদিত সময় হিসেবে সকাল ৬টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শর্তে বলা হয়েছে, রাত্রিকালে বড়শি বা অন্য কোনো উপায়ে মৎস্য শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে টিকিটে উল্লেখিত সময়সূচি ও রাতের মাছ শিকার নিষিদ্ধের শর্ত নিয়ে বরশিয়ালদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
টিকিটের শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত আসনের স্থানে বরশিয়ালদের নিজেদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে নিতে হবে। প্ল্যাটফর্ম ছাড়া দিঘির অন্য কোনো স্থানে বসে মাছ শিকার করা যাবে না। এছাড়া ঝুপি ও চারকাঠি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একটি টিকিটে সর্বোচ্চ চারটি ছিপ ব্যবহার করা যাবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে চাইলে কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা আগে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও টিকিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকিটে আরও উল্লেখ রয়েছে, প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার বড়শি দিয়ে মাছ ধরার টিকিট ছাড়া হয়।
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা
বরশিয়ালদের অভিযোগ ও টিকিটের শর্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে টিকিটে দেওয়া নাজিরের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ওই নম্বরে একজন ফোন ধরে জানান, তিনি আগে এ দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি বর্তমান নাজিরের একটি নম্বর দেন।
পরবর্তীতে ওই নম্বরেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরশিয়ালদের দাবি, টিকিটের মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি বসার জায়গা, উন্নত মাচা, যাতায়াত ও রাতযাপনের বিষয়সহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে দুর্গাসাগরে মাছ ধরার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে মাছ ধরার নিয়ম ও সময়সূচি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যে প্রশ্ন রয়েছে, তা পরিষ্কার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।