দেশে ফলের দাম আকাশছোঁয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ২০:৫০ অপরাহ্ণ
দেশে ফলের দাম আকাশছোঁয়া

দেশের বাজারে বছর বছর বাড়ছে ফলের দাম। এতে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ফল খাওয়াও নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। আমদানি করা ফলের ওপর শুল্ক-কর বৃদ্ধি এবং বাজারে দেশি ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ফলের বাজার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আমদানি করা মাল্টা, আপেল, নাশপাতি ও আঙুরের ওপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও ফলের দাম বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

পাঁচ বছরে মাল্টার দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পথ্য হিসেবে মাল্টার চাহিদা রয়েছে। রাজধানীর বাজারে ২০২০ সালের জুলাই মাসে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হতো ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। বর্তমানে একই মাল্টার দাম ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। গত সেপ্টেম্বর মাসে দাম আরও বেড়ে প্রতি কেজি ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় উঠেছিল।

অর্থাৎ, ২০২০ সালের তুলনায় বর্তমানে মাল্টার দাম দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে নিয়মিত ফল কেনা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাড়ছে দেশি ফলের দামও

আমদানি করা ফলের পাশাপাশি দেশি ফলের দামও বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি ফলের দাম বাড়ার প্রভাব ফলের সামগ্রিক বাজারেও পড়েছে।

২০২০ সালের জুলাই মাসে এক হালি সাগর কলার দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আকারে ছোট কলা তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও চায়ের দোকান থেকে একটি সাগর কলা কিনতে এখন প্রায় ১৫ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

ফলে তুলনামূলক সস্তা দেশি ফলও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আগের মতো সহজলভ্য নেই।

ফল আমদানিতে শুল্ক-কর পর্যালোচনা

ফলের বাড়তি দাম নিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে ‘এখন একটি মাল্টা ১০০ টাকা, একটি ডাব ১৫০-২২০’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠকের পর ফলের শুল্ক-করভার ও বাজারদর পর্যালোচনা করে সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে। কমিশন তাদের প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তাজা ফল আমদানির শুল্ক-করকাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাজা ফলকে বিলাসজাতীয় পণ্যের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এর ফলে ফলের ওপর করের বোঝা বাড়ছে, যা বাজারদরেও প্রভাব ফেলছে।

কর কমানোর বিষয়ে কী বলছে সরকার?

তাজা ফলের ওপর শুল্ক-কর কমানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কাজ চলছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে শুল্ক-কর কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও সাধারণ ক্রেতারা এখনো বাড়তি দামে ফল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, ভবিষ্যতে ফলের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য কতটা স্বস্তি ফিরবে।