জলবায়ু সংকটে হিমালয় পর্বতমালা, ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১৬:২৭ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে হিমালয় পর্বতমালা, ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

হিমালয় পর্বতমালা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একটি সংকটজনক পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। গত এক দশকের তুলনায় হিমবাহ গলার হার বেড়ে যাওয়ায় পানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ছে। এতে আগামী কয়েক দশকে কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চলতি মাসে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয় অঞ্চলে শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নদীর পানিপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর হিমবাহের পানি কমে যাওয়ায় নদীগুলোর প্রবাহও কমতে শুরু করবে। এই পরিস্থিতিকে বলা হচ্ছে ‘পিক ওয়াটার’ বা পানিপ্রবাহের সর্বোচ্চ পর্যায়।

গবেষণাটি করেছে টেকসই উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকিউ, ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ইনিশিয়েটিভ, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট এবং ভারতের জি বি পন্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান এনভায়রনমেন্ট।

গবেষণায় বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে গত কয়েক দশকে হিমবাহের বরফ কমার হার দ্রুত বেড়েছে। আফগানিস্তান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত আটটি দেশে বিস্তৃত এই অঞ্চলে আনুমানিক ৪০ হাজার হিমবাহ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মাটিতে মাত্র ২১টি হিমবাহের ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

হিমবাহ গলে পিছিয়ে যাওয়ার ফলে পাহাড়ি এলাকায় অস্থিতিশীল হিমবাহ-হ্রদ তৈরি হচ্ছে। এসব হ্রদ আলগা পাথর ও বরফের বাঁধে আটকে থাকে। বাঁধ ভেঙে গেলে নিচের উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে। এসব উপত্যকায় লাখো মানুষ বসবাস করেন।

ভারতে প্রায় ২০০টি হিমবাহ-হ্রদকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি ‘অত্যন্ত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ বলে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব হ্রদ ভেঙে গেলে নিচের দিকে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, হিমালয় অঞ্চল ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনের ২০ শতাংশের বেশি অর্থনীতিকে ভিত্তি জোগায়। ফলে এই অঞ্চলের পানিসম্পদ ও পরিবেশগত পরিবর্তন ভারতের অর্থনীতি ও জাতীয় অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের মোট ভূমির প্রায় ১৮ শতাংশ হিমালয় অঞ্চলে হলেও দেশটির প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রায় ৩৫ শতাংশ এই এলাকায় ঘটে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আগস্টের শেষ দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে পড়ে। এতে নিচের উপত্যকাগুলোতে ধারাবাহিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।