১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:৩৬

গলাচিপায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৪০ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালীর গলাচিপায় মার্জিয়া নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের চর সুহুরী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত মার্জিয়া (২০) গলাচিপা থানাধীন গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা মো. আলতাফ হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে শুক্রবার গলাচিপা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মার্জিয়ার স্বামী রাসেল হাওলাদার ও রাসেলের বন্ধু লিমনকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। মামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার।

আসামিরা হলেন স্বামী রাসেল হাওলাদার (২৫), রাসেলের বন্ধু লিমন (২৫) রাসেলের বাবা মো. বাচ্চু হাওলাদার (৪৭) ও মা মোসা. মাসুমা বেগম (৪৪)। মামলার বিবরণে জানা যায়, গলাচিপা থানাধীন গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামের মো. রাসেল হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার আলতাফ হোসেন হাওলাদারের মেয়ে মার্জিয়ার প্রায় আড়াই বছর আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই রাসেলের বাবা বাচ্চু হাওলাদার ও মা মাসুমা বেগম প্রায়ই মার্জিয়াকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করত। এতে মার্জিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে, মার্জিয়ার স্বামী রাসেল ও তার বন্ধু লিমন দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে মাদক সেবন করে আসছিল। মার্জিয়া তার স্বামীকে মাদক সেবন ও বন্ধু লিমনের সঙ্গে মিশতে বাধা দেয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল মার্জিয়াকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। পরবর্তীতে মার্জিয়া বিষয়টি তার শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে জানালে তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে (মার্জিয়া) বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক কথা শুনাত। মামলায় আরো বলা হয়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেলের বন্ধু লিমন তাদের (রাসেলের) ঘরে আসে।

তখন মার্জিয়া লিমনকে ঘরে দেখতে পেয়ে স্বামীর কাছে জানতে চায়-লিমন কেন ঘরে এসেছে? তখন রাসেল উত্তেজিত হয়ে মার্জিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ বিভিন্ন ধরনের অপমানজনক কথাবার্তা বলেন।

এর পর বন্ধু লিমনকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় মার্জিয়া যেতে বাধা দেয়। এ সময় রাসেল আবারও মার্জিয়াকে গালাগাল করে। ঘটনাটি শ্বশুর ও শাশুড়িকে জানালে তারাও গালাগালসহ অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। এতে অভিমানে মার্জিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় গৃহবধূ মার্জিয়ার বাবা আলতাফ হোসেন গলাচিপা থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo