শেবাচিমে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ১৫, ২০২৫, ০০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
শেবাচিমে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ১৫

রাইজিং ডেক্সঃ
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় হাসপাতাল কম্পাউন্ডে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকালও শেবাচিম হাসপাতালের সামনে অনশন করে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের ১৮তম দিনে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্র-জনতা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের দাবিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানালে তাদের ওপর চরাও হয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৫ জন ছাত্র-জনতা আহত হন এবং আন্দোলনরত কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আন্দোলনরতদের বের করে দিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা হাসপাতালের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন গেইট তালাবদ্ধ করে রাখেন।

এদিকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মহিউদ্দিন রনি। তিনি বলেন, তারা শান্তসৃষ্টভাবে আন্দোলন করছিলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আবু জাফর বরিশালে এসে চলমান আন্দোলনকে অযৌক্তিক বলে আখ্যা দেন। আজকের হামলার পিছনে ডিজির ওই বক্তব্যকে দায়ী করছেন মহিউদ্দিন রনি।

ডিজির উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরে হঠাৎ আন্দোলনরতদের উপর হামলা চালায় হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। শেবাচিম হাসপাতাল সহ স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান মহিউদ্দিন রনি। অন্যদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মতো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে।

এরআগে বুধবার রাত ১০টায় ঘোষণা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। জনভোগান্তির কথা মাথায় রেখে ৩০ কার্যদিবসের জন্য স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, “আন্দোলনের বর্তমান ধরণ ও দীর্ঘ সময় ধরে চলায় জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে মহিউদ্দিন রনির গণঅনশন তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া অপর শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সোহাগ জানান, “স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রতিনিধি দল ও মেডিকেল পরিচালকের আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।”

এরআগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আন্দোলনকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় সদর রোডে মশাল মিছিল বের করেন মহিউদ্দিন রনি।