ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১৪:১৭ অপরাহ্ণ
রাইজিং বরিশাল :
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই একের পর এক কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।
গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে।
যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি। এতে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই যাত্রা অব্যাহত রাখেন তারা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে।
টানা নয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম বলেন, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর নৌকাটি আর সামনে এগোতে পারেনি। এ সময় দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।
করিম জানান, নৌকায় খাবার ও পানি না থাকায় তারা চরম সংকটে পড়েন। তীব্র খাদ্য ও পানির সংকটে নয় বাংলাদেশি মারা যান। পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার পর মরদেহগুলোতে পচন ধরলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের কারণে জীবিতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানেও পচন ধরেছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকেরা তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করছেন। দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন আব্দুল করিম।
এদিকে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে। দূতাবাস জানিয়েছে, মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বাদরানের সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি বাংলাদেশিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহতরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।