বাউফলে গভীর রাতে ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে মারধর, চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১৬:৩৮ অপরাহ্ণ
বাউফলে গভীর রাতে ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে মারধর, চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকায় গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা রাজন মুনসুরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম জয়ন্ত মন্ডল।অভিযুক্ত রাজন মনসুর স্থানীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তার বাবা মনসুর মিয়া বিএনপি নেতা বলে জানা গেছে।

রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ছাত্রদল নেতা রাজন মনসুর ও মুরাদসহ কয়েকজন ব্যক্তি মার্চেন্টপট্টি এলাকার দড়ি-সুতার ব্যবসায়ী জয়ন্ত মন্ডলের বসতঘরে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। গভীর রাতে অপরিচিত লোকজনের ডাকে জয়ন্ত মন্ডল প্রথমে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে অভিযুক্তরা বাজারের নৈশপ্রহরী লালু মিয়াকে দিয়ে জয়ন্ত মন্ডলকে ডাকান। পরিচিত নৈশপ্রহরীর ডাক শুনে জয়ন্ত মন্ডল ঘরের দরজা খুললে রাজন, মুরাদ ও তাদের সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি গলির ভেতর নিয়ে যায়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে আরও জানা যায়, সেখানে নিয়ে ব্যবসায়ী জয়ন্ত মন্ডলের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবসা’ করার অভিযোগ এনে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে অভিযুক্তরা। এরপড়  জয়ন্ত মন্ডলকে তার গুদাম খুলতে বাধ্য করেন। এরপর কারেন্ট জাল পাওয়ার অভিযোগ তুলে জয়ন্ত কে ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশি ভয়ে ও শারীরিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে ব্যবসায়ী জয়ন্ত মন্ডল নগদ ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। টাকা পাওয়ার পর অভিযুক্তরা ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়।

ব্যবসায়ী জয়ন্ত মন্ডল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কালাইয়া বন্দরে সুনামের সাথে দড়ি ও সুতার ব্যবসা করে আসছেন। গভীর রাতে ডেকে নিয়ে তাকে যেভাবে হেনস্তা ও মারধর করা হয়েছে, তাতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাজন মনসুর বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না এবং জয়ন্ত মন্ডল নামের কাউকে আমি চিনি না। তবে বাজারে অনেক ব্যবসায়ী কারেন্ট জাল বিক্রি করে সেটার কারনে ব্যবসায়ীদের সাথে পোলাপানের কথা কাটাকাটি হতে পারে। এখানে কেন আমালে জড়ানো হচ্ছে আমি বুঝছি না।

মুরাদ হোসেনকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেন ,  আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।

এদিকে, কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টির ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সারোয়ার মোর্শেদ মনু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। গভীর রাতে ব্যবসায়ীকে মারধর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।