

রাইজিং ডেক্সঃ
আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে। বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ।চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরেরনআড্ডা,সবখানেই আলোচনা একটাই, আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী?দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপে সোসাল মিডিয়ায় একাধিক প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা শুরু হয়ে গেছে।তবে দলীয় সীগ্ধান্ত ই চূড়ান্ত সীগ্ধান্ত। দলীয় গ্রীন সিগনাল এর জন্য অপেক্ষা রয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জিয়া এর কর্মী সমার্থকসহ সাধারণ জনগনবৃন্দ।জিয়ার সমার্থকদের দৃঢ় বিশ্বাস দল সঠিক নেতাকেই মূল্যায়ন করবেন।এ বিষয় মোঃজিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন,বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনে মহানগর বিএনপির নেতকর্মীদের নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ি সেসময় ফ্যাসিস্ট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে একাধিকবার হত্যা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। তারা কোনোভাবে আমার ক্ষতি করতে না পেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়। কিন্তু তাতেও দমাতে পারেনি। আল্লাহ আমাকে প্রতিবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি আরও বলেন,আমার শরীর দিয়ে যে রক্ত ঝরেছে, তা বরিশালে কোনও নেতার শরীর থেকে ঝরেনি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি ওসব নেতাকর্মীর নেতা হয়ে থাকতে চাই। যাদের দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে কাছে পেয়েছি। মিছিলের সামনে থেকে শুরু করে পেছনে যে ছেলেটা ছিল, তাকেও একইভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে যারা আশায় আছেন গরম ভাত খাওয়ার জন্য। তাদের সেই সুযোগ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেবে না বলে আমার বিশ্বাস। এমনও প্রচার হয়েছে জিয়াকে তুলে নিয়েছে ক্রসফায়ার দেওয়ার জন্য। গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি জেনে আমার ছবি পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন। যা আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে মোবাইল করে আমার খবর নিয়েছেন অনেকে। তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম, আমি ঠিক আছি, দোয়া করবেন। জীবনের মায়া ছেড়ে পরিবার পরিজন ছেড়ে দলের জন্য একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করেছি। চেষ্টা করেছি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ পালন করতে। বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই রাজনীতি করা শুরু করি। যতদিন প্রাণ থাকবে ততদিন দলের হয়ে কাজ করতে চাই।দলীয় সীগ্ধান্ত মেনে নিয়ে তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমার বিশ্বাস দল সঠিক ব্যাক্তিকে বরিশালের মেয়র হিসাবে বেছে নিবেন।আমার রক্ত এবং শ্রম বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ।

এছাড়াও বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে,বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শনিরুজ্জামান খান ফারুক।সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান,বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন,বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম প্রমূখ।

অপরদিকে চরমোনাইয়ের প্রার্থী ফয়জুল করীম এবং নারী মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর’র নাম আলোচনায় রয়েছে।
সূএ- অনলাইন