

রাইজিং ডেক্সঃ
শুধুই কি সেচ্ছাসেবক দলের নেতার কথাই ভেঙ্গে গেল তরুনীর বিবাহ!এমনই প্রশ্ন এখন রুপাতলীবাসীর মুখে মুখে।এ বিষয়ে নানান জন নানান মন্তব্য করছেন।এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বের হয়ে আসছে, রাজনৈতিক এবং জমি জমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের কারনেই বার বার এমন ঘটনা ঘটছে।বিষয়টি গনমাধ্যমে প্রকাশের পর কমেন্টে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ ছেলে পক্ষকে দোষারোপ করছেন কেউ আবার মন্তব্য করছেন এমন সাজানো গুজানো সবকিছুই প্রস্তুুত থাকার পরও যে কোন এক ব্যাক্তির কথায় বিয়ে শেষ? এ কেমন সীগ্ধান্ত।এ রকম বহু মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা যার স্কীনসটসহ দেওয়া হয়েছে।

নগরীর রুপাতলী এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রুপাতলী বাদশাহী বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন হাওলাদার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।আহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাকিলকে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মোঃ শাকিল বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত।আওয়ামীলীগ আমলে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলো মিছিলের প্রথম সাড়িতে।আওয়ামীলীগ শাসনামলে যে গুটি কয়েক বিএনপি’র কর্মী ছিলো রাজপথে রুপাতলী অঞ্চলে তার মধ্যে শাকিল ছিল অন্যতম একজন কর্মী। সকল আ’লীগ বিরোধী আন্দোলনে শাকিল ও তার সহযোগীরা ছিলো মুখ্য ভুমিকায়।যার প্রতিদান হিসেবে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ খানা মামলা করা হয় শাকিলের বিরুদ্ধে, সবগুলোই ছিলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা।তাছাড়া শাকিলের পরিবার এবং বসতবাড়ির উপরও হামলা করা হয় বহুবার।দীর্ঘদিন রাজনৈতিক মামলার কারনে পলাতক থাকতে হয় শাকিলসহ তার পরিবারকে।এরই সুযোগে জমিজমা নিয়ে বিরোধ হয় একই এলাকার উল্লেখিত গংদের সাথে।পূর্ব বিরোধের কারনে ষড়যন্ত্র করে ফেইজবুকে ফেইক আইডি দিয়ে মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিতি দেওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধী পক্ষ অথচ কোন মাদক মামলা নেই শাকিলের নামে,রাজনৈতিকভাবে বদনাম করার ষড়যন্ত্র চলছে এমনটাই দাবী ভুক্তভোগী শাকিলের।

তিনি আরও বলেন,বিএনপি এর নাম ব্যবহার করে আমাকে এবং আমার সিনিয়ার নেতাদের বদনাম করার চেষ্টা করছেন কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারী যাহারা আ’লীগ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সময় নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে আ’লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে।আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে পারলে আমার সিনিয়ার নেতাদেরও বদনাম হবে এটাই মুল লক্ষ্য ষড়যন্ত্রকারীদের।দলের জন্য জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিলাম,বহুবার আহত এবং গ্রেফতার হয়েছি। এখন আমার রাজনৈতিক পদবী ব্যবহার করে আমাকে দল থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে তা না হলে বিয়েতে ভাঙ্গানির বিষয়টায় কেন আমাকে জড়িয়ে সব জায়গায় সেচ্ছাসেবক দলের নেতা উল্লেখ করে প্রচার করা হচ্ছে।আমি বললাম আর সাজানো বিয়ে ভেঙে গেলো বাহ্। আবার আমাকেই হামলা করা হলো সাথে সাথেই,এসব সাজানো ছিলো আগে থেকেই।আহত শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান বাচ্চু, সোহাগ হাওলাদার, মিরাজ হাসান মুন্না, আমিরুল ইসলাম, মুন ইসলাম, কামরুল ইসলাম, মাসুম মৃধা, মতিউর রহমান ও লতিফ হাওলাদারসহ অজ্ঞাত আরও ৪০–৪৫ জন তার ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র ও জিআই পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একই পক্ষ তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত কোতোয়ালি থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে তার আপত্তি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।শাকিলের অভিযোগ, ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তিনি নারাজি দেওয়ায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালায়।নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান,বিয়েতে ভাঙ্গানি মুল কারন না এটা বোঝা সহজ বিষয়।শাকিলের উপর হামলা আগেও হয়েছে।এবার হামলার পর দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে। ঐ এলাকার একব্যাক্তি আরও বলেন,সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তাই হয়তো রাজনৈতিকভাবে শাকিলকে ব্যবহার করে তৃতীয় কোন পক্ষ উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করছে।

গোপন সূএে জানা যায়, বিরোধী পক্ষও মামলা দায়ের করছেন তবে এর কোন সত্যতা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি
এদিকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে লতিফ হাওলাদার নামে এক বৃদ্ধ নাটকীয়ভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।ভুক্তভোগীর পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রুপাতলী এলাকার বাসিন্দারা আতংকে দিন কাটাচ্ছে,যে কোন সময় আবারও যেকোন রকম ঘটনা হতে পারে।সকলের একটাই দাবী স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের হস্তক্ষেপে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।