স্বাধীনতা পরবর্তীকালে গাঁজা, চরশের সঙ্গে মেনড্রেক্স নামের একটি ট্যাবলেট নেশাদ্রব্য হিসেবে তরুণ-যুবাদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। সেসময় নেশা করার সস্তা ও সহজলভ্য আরেকটি উপকরণ ছিল তাহলো সঞ্জীবনী সুরা। তখন প্রত্যেকটি আয়ুর্বেদীয় ঔষধালয় মণকে মণ এ সুরা উৎপাদন করতো। এর অতিরিক্ত স্পিরিট ও অ্যালকোহলের কারণে সন্ধ্যার পর সুরা পান করে অনেকে নেশা করত। আসলে সে সময় আয়ুর্বেদীয় ঔষধালয়গুলো ওষুধের নামে এই সুরা বেচেই অনেক অবৈধ মুনাফা করতো। এরশাদের সময় জাতীয় ঔষধনীতি ঘোষিত হলে অন্য অনেক অপ্রয়োজনীয় ওষুধের মতো সুরা উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।
গাঁজা, চরশের পর শুরু হয় ফেন্সিডিলের যুগ। একসময় এটি কফ সিরাপ হিসেবে প্রচলিত ছিল। স্বাস্থ্যনীতির সময়ে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ হিসেবে ফেন্সিডিল নিষিদ্ধ হয় বাংলাদেশে। কিন্তু কয়েকবছরের মধ্যে মাদক হিসেবে ফেন্সিডিল বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে এর উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় ভারত থেকে চোরাইপথে আসতে থাকে ফেন্সিডিল। এটি অনেক জায়গায় ‘ডাইল’ হিসেবেও বেশ পরিচিত।
ফেন্সিডিল বোতলে বা বড় শিশিতে করে বিক্রি করা হয়। ফলে তা বহন ও বিক্রি করা কিছুটা ঝামেলার ছিল। অন্যদিকে কিছু মাদক ইনজেকশনের মাধ্যমে নিতে হতো বলে সেখানেও সামান্য ঝামেলা পোহাতে হতো। ইয়াবা আসার পর অনেক সমস্যার অবসান ঘটে। পরিবহনের ক্ষেত্রে ইয়াবা খুব সুবিধাজনক। পকেটে করেই অনেক ইয়াবা একসাথে বহন করা সম্ভব। যে কারণে মাদক হিসেবে ইয়াবা নেশাখোরদের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সারাদেশে মাদকসেবিদের কাছে খুব সহজে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ইয়াবা খুব সহজলভ্য একটি মাদক। অনলাইনেও মাদক কেনেন অনেকে। ঘরে ঘরে বা গ্রাহকের জন্য সুবিধাজনক স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার মতো নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে গেছে।