তানোরে গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী আভা

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪, ২৩:০৭ অপরাহ্ণ
তানোরে গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী আভা

সুজন তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহী তানোরে গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে স্বর্ণালী আভা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল,ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল’।শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে ঋতুর ‘রাজকন্যা’ ফাল্গুন এসেছে বাংলার বুকে।ফাগুনের ছোঁয়ায় তানোরের বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে বাতাসে দোল খাচ্ছে আমের মুকুল।বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের ম ম ঘ্রাণ।চারিদিকে শোনা যাচ্ছে কোকিলের কুহুতান।পাশাপাশি জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা।তানোর থেকে তালান্দ আসার রাস্তার দুপাশ,ও বিভিন্ন গ্রামের আম বাগান সহ সবখানেই গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল।গাছে গাছে আমপাতার সবুজ বিছানায় মুকুলের সোনালি রেণু যেন ফুলশয্যা সাজিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে ফাল্গুনকে।তানোর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে,বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ধরেছে।রাজশাহী এখন দিন দিন আমের রাজ্য হিসেবেও পরিচিত লাভ করেছে।যেদিকে তাকানো যায়, গাছে গাছে এখন শুধু দৃশ্যমান সোনালি মুকুলের আভা।এ যেন নতুন রূপে সেজেছে তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম গাছগুলো।আমের মুকুলে ভরপুর আর ম ম ঘ্রাণে তানোর উপজেলার সর্বত্র জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা।শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়।মৌমাছি রাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে।এবার প্রায় ৭০ শতাংশ গাছেই মুকুল এসেছে।বাগান মালিক ও কৃষি কর্মকর্তা এবং আমচাষীরা আশা করছেন,বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তানোর উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে।এ এলাকার আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।আধুনিতার ছোঁয়া লেগেছে আম চাষেও।গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করে আসছেন তারা।যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়।তানোর উপজেলায় খিরসাপাত,মোহনভোগ,রাজভোগ,বারী-৪,গোপালভোগ সহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় চাষিরা নিজ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান করেছেন।তানোর উপজেলার কামার গাঁ ইউপির পারিশো গ্রামের আম চাষি বিপ্লব জানান,সব গাছে এখনো পুরোপুরিভাবে মুকুল আসেনি।সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই সব গাছেই মুকুল আসবে।এবার ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করা যাচ্ছে।আর ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান।কলমা গ্রামের কৃষক রানা বলেন,প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে আমার বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।বেশির ভাগ গাছই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে।কিছু গাছে এখনও মুকুল বের হচ্ছে।এ অবস্থা থাকলে এবার আশা করছি,আমের বাম্পার ফলন হবে। তানোর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, তানোর উপজেলায় বিরাজ মান আবহাওয়া ও মাটি আমচাষের জন্য বিশেষ উপ যোগী।এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে।এবার গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন নেই।তবে ছাত্রাকজনিত রোগেও আমের মুকুল,ফুলগুটি আক্রান্ত হতে পারে।এ ক্ষেত্রে ম্যানকোজেট গ্রুপের ছাত্রাকনাশক দুই গ্রাম অথবা ইমাডোক্লোরিড গ্রুপের দানাদার প্রতি লিটার পানিতে দশমিক দুই গ্রাম,তরল দশমিক ২৫ মিলিলিটার ও সাইপারম্যাক্রিন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিমিটার মিশিয়ে স্প্রে করলেই চলবে। তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকবর হোসেন ও রাকিব,মির সুমনরানা বলেন,এবার আগাম মুকুল ফুটেছে।আবহাওয়া ভালো থাকলে মুকুলগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই।আমের মুকুলের পরিচর্যায় ছত্রাক নাশক বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।গত মৌসুমে আমের বাজার ভালো থাকায় লাভবান হয়েছিলেন চাষিরা।গত বছরের চেয়ে এ বছর আম বাগান আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে তানোর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে এখনো আম চাষ শুরু হয়নি।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে তিনি আশা করছেন।