বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়াকে নিয়ে অভিনেতা আনু কাপুরের বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তবে এ ধরনের মন্তব্যে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজ ও অভিনয়জীবনেই মনোযোগ দিতে চান তিনি। তামান্নার মতে, একজন সৃজনশীল মানুষের জন্য কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে আর কোনটি এড়িয়ে যেতে হবে, তা বুঝতে পারা খুবই জরুরি।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামান্না বলেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে দর্শকরা যেন তাকে কেবল পরিচিত ইমেজ বা পর্দায় উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখেন, সেটিই তার প্রত্যাশা। সাম্প্রতিক কাজের মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছেন কি না, এমন আলোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মনোযোগ দিয়ে শোনা। তবে শোনার পর কোন বিষয়গুলো গ্রহণ করব আর কোনগুলো এড়িয়ে যাব, তা বোঝাও জরুরি। কারণ, আমরা যদি এ ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করি, তাহলে হয়তো জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’
তামান্না আরও বলেন, ‘আমি এসব বিষয় দেখিও না। নিজের কাজ, কী তৈরি করতে চাই এবং অভিনয়জীবন—এসব নিয়েই মনোযোগী থাকি।’
অভিনয়কে শুধু পেশা হিসেবে দেখেন না বলেও জানান এই অভিনেত্রী। বরং দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। তামান্নার ভাষায়, ‘আমি সত্যিকার অর্থেই নিজের কাজকে সেবার মতো করে করতে চাই এবং সেটাই করি। হয়তো এ কারণেই আমার কাজ মানুষের কাছে পৌঁছায়। কারণ, এর পেছনে আমার আন্তরিকতা রয়েছে।’
গত বছর শুভঙ্কর মিশ্রের ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন আনু কাপুর। কথোপকথনের একপর্যায়ে উপস্থাপক তামান্না ভাটিয়ার অভিনীত ‘আজ কি রাত’ গানটির প্রসঙ্গ তোলেন। তখন তামান্নার চেহারা ও শারীরিক গড়ন নিয়ে মন্তব্য করে আনু কাপুর বলেন, ‘মাশাল্লাহ, ক্যায়া দুধিয়া বদন হ্যায়।’ (মাশাল্লাহ, কী চমৎকার দুধের মতো ফর্সা শরীর!)
এ সময় তিনি আরও বলেন, তামান্নার পরিবেশনা শিশুদের শান্তিতে ঘুমাতে সাহায্য করে। তার সব ইচ্ছা পূরণ হোক—এমন শুভকামনাও জানান অভিনেতা।
নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আনু কাপুর বলেন, ‘আমাদের বোন তার গান, শরীর ও দুধের মতো শুভ্র মুখ দিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়াচ্ছেন। এটি খুবই ভালো বিষয়। দেশের শিশুরা যদি ভালো ও সুস্থভাবে ঘুমাতে পারে, তাহলে তা হবে দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তার আরও কোনো ইচ্ছা থাকলে ঈশ্বর যেন তা পূরণের সামর্থ্য দেন।’
তবে আনু কাপুরের এ মন্তব্য ভালোভাবে নেননি অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার বক্তব্যকে নারীর শরীরকেন্দ্রিক ও আপত্তিকর বলে সমালোচনা করেন। এ ঘটনা বিনোদনজগতে অভিনেত্রীদের শারীরিক গড়ন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার প্রবণতা নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।