জাপান থেকে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
জাপান থেকে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে চার দিনের বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় সফর শেষে জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই সফর শেষে শুক্রবার ভোররাতেই রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, শুক্রবার রাত ২টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর টোকিও সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে বহুমাত্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। এই বৈঠকেই বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়।

PM Return 02
এই সফরের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল দুই দেশের মধ্যে ৬টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল ও ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের দুটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর। এছাড়া উপকূলীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে একটি আধুনিক টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২.১২ বিলিয়ন ইয়েন অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য সংস্থা জেট্রো-তে বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।

সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টোকিওতে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাপানি জায়ান্ট কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের অটোমোবাইল, উচ্চগতির রেল, লজিস্টিকস ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের জোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকা প্রধান ড. আকিহিকো তানাকা, জেবিআইসি ও জেট্রো প্রধানদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

সফর শেষ করার আগে প্রধানমন্ত্রী ফুত্তসুতে ‘জেরা’ এলএনজি টার্মিনাল, নিতসু লজিস্টিকস হাব এবং নাগোয়ায় বিশ্বখ্যাত ‘টয়োটা মোটর কর্পোরেশন’-এর কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। মেগা প্রকল্পগুলোতে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় এই সফর দুই দেশের মধ্যে প্রথম ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) স্বাক্ষরের পথ উন্মুক্ত করেছে।