থানায় ঢুকে ওসিকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে কড়া শাসানি দিলেন রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
থানায় ঢুকে ওসিকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে কড়া শাসানি দিলেন রুমিন ফারহানা

থানার ভেতরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, একের পর এক অভিযোগ আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সরগরম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়ালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে ওসিকে উদ্দেশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার।’ জবাবে ওসিও পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে বাধা দেন। দুই পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে থানার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি সহায়তা চেয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে তাঁকে নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার কারণ জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান সংসদ সদস্য। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। উল্টো ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাদানুবাদের একপর্যায়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে বাধা দেন। তাঁর দাবি, রাজ্জি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে গেলেও সংসদ সদস্য নিষেধ করেছিলেন।

জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।

এদিকে, ওসির বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন সংসদ সদস্য। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওসি বলেন, হাওর এলাকায় ইটভাটাগুলো পানির নিচে থাকায় সেখান থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে জানান ওসি।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনগণই তাঁর নিরাপত্তা দেবে। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটার কাজ থেকে অর্থ নেওয়া এবং ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ; সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।

ওসির আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে এভাবে কথা বলা যায় না। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর ওসি’ বলেও আখ্যা দেন।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।’