মাতারবাড়ী বন্দর ঘিরে জাপানের মহাপরিকল্পনা, যুক্ত হবে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১৪:৪৯ অপরাহ্ণ
মাতারবাড়ী বন্দর ঘিরে জাপানের মহাপরিকল্পনা, যুক্ত হবে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’
কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চয় সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জাপান। এ পরিকল্পনার আওতায় মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তরের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের মধ্যে সড়ক ও ট্রানজিট যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপান মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে এমন একটি অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তুলতে চায়, যার আদল হবে থাইল্যান্ডের ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক করিডরের মতো। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি সড়ক ও ট্রানজিট যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় টোকিও।

এদিকে, চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য টোকিও সফরে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (এমএমআইডিআই) এবং ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত জাপানের আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা—জাইকার (জেআইসিএ) অর্থায়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এই বন্দরকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাতারবাড়ী বন্দরের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি মৈত্রী সেতুর মতো সীমান্তপার যোগাযোগ প্রকল্পগুলো কার্যকর করা এবং আঞ্চলিক ট্রানজিটব্যবস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, জাপানের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর শুধু বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো হিসেবেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ আকারে সাজানো হয়েছে। প্রকাশের আগে ‘দ্য হিন্দু’র মূল প্রতিবেদন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করে নেওয়া উচিত।