যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে সেখানেই: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নয়, এই সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। কারণ যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতিকে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় রয়েছে বড় সম্ভাবনা।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। ভৌগোলিক অবস্থান যেমন দেশগুলোকে একত্রিত করেছে, তেমনি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক এ অঞ্চলের অভিন্ন সমৃদ্ধির পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ।

এর আগে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

সবশেষে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত করার প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।