বরিশালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অসহায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাগিয়ে নেওয়া দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরের রুপাতলী বাস টার্মিনাল এবং লঞ্চঘাট এলাকাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা সাধারণ রোগীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নগরের রুপাতলী বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে চিহ্নিত দালাল চান্দু ও কানা লিটন। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বাসে আসা রোগীদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) যাওয়ার আগেই এই চক্রটি পথরোধ করে। রোগীদের ভুল বুঝিয়ে এবং ভুল তথ্য দিয়ে তারা নির্দিষ্ট কিছু নিম্নমানের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, নৌপথে আসা দূর-দূরান্তের রোগীদের টার্গেট করতে বরিশাল নদীবন্দর (লঞ্চঘাট) এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে সপন, আনোয়ার এবং চান্দু। লঞ্চ থেকে নামা মাত্রই গ্রামীণ ও সহজ-সরল রোগীদের উন্নত ও সস্তা চিকিৎসার লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে এই চক্রটি।
ভুক্তভোগীরা জানান, এই দালালরা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে চড়া মূল্য আদায় করে এবং সেই টাকার একটি বড় অংশ কমিশন হিসেবে নিজেদের পকেটে পুরে। এদের খপ্পরে পড়ে অনেক দরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে, আবার অনেকেই ভুল চিকিৎসায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)-এর নবাগত পুলিশ কমিশনারের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং গোয়েন্দা নজরদারি ছাড়া এই সুনির্দিষ্ট চক্রগুলোকে নির্মূল করা সম্ভব নয়। রুপাতলী ও লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়মিত পুলিশিং টহল এবং ঝটিকা অভিযান জোরদার করার জন্য বিএমপি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।