বাউফলে অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ,সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ২০:৩৪ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা আব্দুর রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের রেজুলেশন বহি গায়েব করে ও সাবেক অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও নানা অনিয়মের অভিযোগে অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে আজ বুধবার কলেজের একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় অভিবাবকেরা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ১৯৯৫ সালের ১৫ জুলাই কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান আবুল কালাম আজাদ। প্রথমে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০০৮ স্নাতক শাখায় ছাত্র ভর্তির অনুমতি লাভ করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্নাতক শাখায় ২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তাঁরা সবাই করোনাকালীন সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাতা পেয়েছিলেন।
২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ অবসরে যান। এরপরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল মালেক। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ আগষ্ট দলীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন।
আবদুল মালেক ছিলেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়াও তিনি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার একেএম নূরুল হুদার আপন ভাগ্নি জামাতা।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর তিনি দীর্গদিন পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ম্যানেজ করে চাকুরিতে আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. ইউনুচ মৃধা বলেন, স্নাতক শাখায় যে ২৯ জন শিক্ষক করোনাকালীন ভাতা পেয়েছিলেন তাঁরাই বৈধভাবে নিয়োগকৃত শিক্ষক। কিন্তু হঠাৎ করে দেখতে পেলেন পদার্থবিদ্যা বিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক পদে লেমন রায়, ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে প্রভাষক পদে মো. মাসুদ ও লাইব্রেয়িান বিষয়ে প্রভাষক পদে মো. বাহাউদ্দিন নামে তিনজন এমপিওভুক্ত হয়েছেন এবং কলেজে আসছেন। এমপিওভুক্ত হওয়ার আগে তাঁরা কোনোদিন কলেজেও আসেননি। করোনাকালীন ভাতার তালিকায়ও তাঁদের নাই।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন বলেন,মো. আসাদুজ্জামান নামে এক শিক্ষককে ২০০৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখে স্নাতক শাখার ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি যোগদান করেন এবং তিনি করোনাকালীন ভাতাও পেয়েছিলেন। অথচ তাঁকে বাদ দিয়ে একই বিষয়ে মোছা. নাছিমা নামে আরেকজনকে সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষর স্ক্যান করে ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে এমপিও করার চেষ্টা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কলেজের কয়েকজন শিক্ষক বলেন,সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্যারের সময়ের নিয়োগ সংক্রান্ত রেজুলেশন বহি গায়েব করে নতুন রেজুলেশন করে ও সাবেক অধ্যক্ষ স্যারের স্বাক্ষর জাল করে বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেক স্নাতক শাখার বিভিন্ন পদে অন্তত ২০ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকারও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
স্নাতকের প্রভাষক আবদুর রহিম বলেন,বৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে শিক্ষকতা করছেন,করোনাকালীন ভাতাও পেয়েছিলেন। অথচ তাঁর নাম এমপিওভুক্তির জন্য পাঠানো হচ্ছে না। অভিন্নভাবে বলেন, রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক মো. লিটন ও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুল মালেক বলেন,সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ স্যারের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিরাই এমপিওভুক্ত হচ্ছেন। স্যারের স্বাক্ষর করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ সত্য না। করোনাকালীন ভাতাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে কিভাবে অন্য শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সবাই এমপিওভুক্ত হবেন। নতুন রেজুলেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রেজুলেশন বই হারিয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নতুন রেজুলেশন বই ক্রয় করা হয়েছে।
যদিও সাবেক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুল মালেকের স্বাক্ষরিত এমপিও এবং এমপিও না এমন ৬৮ জন শিক্ষকের তালিকার মধ্যে ২০ জনকে তাঁদের নামের সামনে ভুয়া নিযোগ বলে লিখে রেখেছেন।