হামলায় সৌদির তেল পাইপলাইনের ব্যাপক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
হামলায় সৌদির তেল পাইপলাইনের ব্যাপক ক্ষতি

ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

শুক্রবারের হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সৌদি আরব এখনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। তবে তেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। সরবরাহ কমে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

রোববার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে উঠেছে। মে মাসের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম।

রয়টার্সের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইন মেরামতে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে অন্য একটি সূত্র বলেছে, এর আগেই কাজ শেষ হতে পারে। মেরামতের সময় পাইপলাইনের কিছু অংশ দিয়ে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহও চালু রাখা সম্ভব হতে পারে।

সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দুই সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ পাইপলাইনটির বড় অংশ বন্ধ থাকতে পারে।

গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে সৌদি আরব এই পাইপলাইন ব্যবহার করে আসছে। এর মাধ্যমে হরমুজ এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হচ্ছিল।

তিনটি শিল্প সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন তেল রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। মিশরের আইন সুখনা ও সিদি কেরির বন্দরেও সৌদি আরবের কিছু তেল মজুত রয়েছে। তবে এসব মজুতও সীমিত।

এদিকে তেলের দাম বাড়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আশাও কমেছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, সোমবারের নির্ধারিত আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।

এই বৈঠকে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও সেখানে উপস্থাপনের কথা ছিল।

এদিকে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা চালাচ্ছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা। সম্প্রতি তারা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে অঞ্চলটির তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।