হোল্ড অন’ বলায় ক্ষিপ্ত/সংক্ষুদ্ধ হয়ে রাস্তার মাস্কানের মত আচরন করেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট ছাত্রলীগের একজন সাবেক কর্মী ছিলেন।
admin
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২৪, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মো: রবিউল বিশেষ প্রতিনিধি
শিক্ষক পিটিয়ে বহিস্কার হওয়া প্রতীক দত্তই সেই ম্যাজিস্ট্রেট যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইন্সপেকশনের সময় বয়োবৃদ্ধ জনৈক ব্যবসায়ী ‘হোল্ড অন’ বলায় ক্ষিপ্ত/সংক্ষুদ্ধ হয়ে রাস্তার মাস্কানের মত আচরন করেছিলেন!
ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে প্রতীক দত্ত নামের এই সরকারী কর্মকর্তা অতীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের একজন সাবেক কর্মী ছিলেন এবং ২০১৫ সালের ১২ই এপ্রিল বুয়েটেরই প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম’কে পিটিয়ে বহিস্কৃত হন।
বিভিন্ন প্রকাশিত সংবাদ যাচাই করে জানা যায় যে, ১২ এপ্রিল ২০১৫ দুপুরে বিভাগীয় অফিসে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বসেছিলেন। এ সময় বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ্র জ্যোতি ঠিকাদার ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ কনকের নেতৃত্বে প্রতীক দত্ত সহ আরো ১৫-২০ নেতাকর্মী ওই শিক্ষককে কক্ষ থেকে বের করে মারধর করতে থাকেন। পরে ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা তাঁকে টানতে টানতে ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে নিয়ে যায় এবং সেখানেও বেধড়ক মারধর করেন।
অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের অপরাধ ছিলো তিনি জামায়াত নেতা মরহুম কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে ফেসবুকে মন্তব্য করেছিলেন- “জয় বাংলা শুধু একটি দলকেই উপস্থাপন করে, জয় বাংলাদেশ বলুন। এটা অরাজনৈতিক। জয় বাংলা দুটি দেশকে উপস্থাপন করে।”
আরেকটি মন্তব্যে তিনি লিখেছিলেন, “অপেক্ষা কর এবং দেখ। দিন দিন তোমরা সবাই রাজাকারের চেয়েও অধম হবে। অবিচার কখনই ভালো হয় না।” ব্যাস এতটুকুই!
শিক্ষক পেটানোর ঘটনার পর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের বৈঠকে ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদকে আজীবন বহিষ্কার এবং পাশাপাশি প্রতীক দত্ত ও রাতুল নামে আরো দুই ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও হয়।
অবশ্য পরে ওই চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট।