স্ত্রীর হাত-পা ভেঙে মৃত্যু নিশ্চিত করে ভাঙ্গার সড়কের পাশে ফেলে গেলেন পাষন্ড স্বামী

admin
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৪, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
স্ত্রীর হাত-পা ভেঙে মৃত্যু নিশ্চিত করে ভাঙ্গার সড়কের পাশে ফেলে গেলেন পাষন্ড স্বামী

 

মোঃ রিপন শেখ ভাঙ্গা(ফরিদপুর)প্রতিনিধি-

কল্পনা বেগম (৪০), ঢাকার কমলাপুর এলাকায় সরদার গার্মেন্টসে কাটিং মাস্টারের চাকরি করেন। সে দীর্ঘদিন ২০ বছর ধরে ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরি করে এক ছেলে-এক মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে বাসা ভাড়া করে সংসার চালাতেন কল্পনা। গার্মেন্টসে চাকরি করার অবস্থায় ভালোবেসে মুজিবুর রহমান মুন্সী নামের এক যুববকে বিয়ে করেন। এরপর মুজিবুর কোন কাজকর্ম না করে স্ত্রীর নিকট থেকে টাকা নিয়ে চলা ফেরা করেন। মুজিবুর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে একে একে করেন নয়টি বিবাহ ।

পরে বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে কল্পনা ও মুজিবুরের মধ্যে নেমে আসে চরম অশান্তি। কিছুদিন আগে মুজিবুরের নিজের বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর গ্রামে স্ত্রী কল্পনাকে নিয়ে আসেন । এরপর কল্পনার জীবনে নেমে আসে তার উপর চরম অমানবিক নির্যাতন।

সোমবার রাত এগারটার দিকে কল্পনা বেগম চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু অবস্থায় ভাঙ্গা হাসপাতালে সাংবাদিক সামনে তার সাথে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গতকাল (১৮ মার্চ) সোমবার সন্ধ্যায় আমার স্বামী মুজিবুরের সাথে গাছ কাটার বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে আমার স্বামী মুজিবুর পরিকল্পনা করে আমাকে হত্যা করে মাটি চাপাঁ দিবে । কিছুক্ষন পর সে বাসার মুন্সির পরিত্যক্ত ঘরে আমাকে আটকিয়ে সিদ্দিক মুন্সি, হাবিব মুন্সি সহ অমানবিক নির্যাতন ও হাত-পা ভেঙে মৃত্যুর নিশ্চিত করে ফেলে রাখে।

তারা সবাই আলোচনা করে যেহেতু মারা গেছে, সেহেতু তাকে ঘরের মধ্যে পুঁতে রাখা হবে। আবার বলতে থাকে দূরে কোথাও আমাকে ফেলে দিয়ে আসবে। অনেক পর তারা ৫জন মিলে আমাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জানি না । রাত ৮/৯ টার সময় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া এলাকার মহাসড়কের পাশে খাদে ফেলে দিয়ে তারা চলে যায়। তখন আবার জ্ঞান ছিল না। এরপর রাত অনুমানি সাড়ে দশটার সময় জনৈক এক ভ্যান চালক আমাকে ভাঙ্গা হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। চিকিৎসা দেওয়ার পর কিছুটা জ্ঞান ফিরে আসলে তার সাথে ঘটে যাওয়ার নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশংকা জনক, তার দুটি পা ভাংগা। প্রচুর ব্লাড ঝরছে, তার কোন আত্মীয় স্বজন দেখতে পাচ্ছি না । তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মামুন আল ইসলাম জানান, গতকাল রাত ১১টার সময় সংবাদ পাই, পুকুরিয়া এলাকার সড়কের পাশে এক মহিলাকে মুহূর্ত অবস্থায় এক ভ্যান চালক ভাঙ্গা হাসপাতাল ভর্তি করেছেন। আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঢাকায় রোগীর স্বজনদের খবর পাঠানো হয়েছে। ডাঃ রোগীকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে বলে জানতে পেরেছি। ঘটনার সূত্র যেহেতু রাজৈর থানা এলাকায়, সেহেতু তারাই আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।