পটুয়াখালীর বাউফলে ভাঙন কবলিত তেঁতুলিয়া নদীর চরব্যারেট এলাকায় বালুমহল ইজারা না দেওয়া এবং ভাঙন রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরব্যারেট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা। ঘন্টাব্যাপী চলে এ মানববন্ধন।
মানববন্ধনে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল বশার বলেন,‘চন্দ্রদ্বীপের চারপাশে তেঁতুলিয়া নদী। এতে সবসময় ভাঙন হুমকিতে থাকে চন্দ্রদ্বীপের মানুষ। তারমধ্যে চরব্যারেট এলাকায় ভোলার একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বছরের পর বছর ধরে বালু উত্তোলন করায় চরব্যারেটের একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, মসজিদ, হাট বাজার ও অসংখ্য বসতভিটে সহ প্রায় ১২শ একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করার পর বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন প্রশাসন। প্রায় ১বছর ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদী ভাঙন কমতে শুরু করেছেন এবং একটি নতুন চরও পড়তে শুরু করেছেন। এখন শোনা যাচ্ছে- বাউফলের একটি চক্র বালু মহল ইজারা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে তদবির শুরু করেছেন। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি,‘ভাঙনকবিলত এলাকায় যেনো ইজারা দেওয়া না হয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা কাওসার গাজী বলেন,‘ বালু কাটা ঠেকানোর জন্য বহু বছর ধরে লড়াই সংগ্রাম করেছি। অবশেষে ভোলা জেলা প্রশাসন কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে বালু কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। বালু কাটা বন্ধ হওয়ার পর থেকে ভাঙন কমে গেছে, নতুন চর জাগতে শুরু করছে। আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আবারও বালু কাটার পায়তারা শুরু করেছেন। তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লবিং তদবির শুরু করেছেন। চন্দ্রদ্বীপের মানুষের জীবন থাকতে তেঁতুলিয়া নদীতে কোনো বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। দরকার হলে আমরা জীবন দিবো, তারপরেও বালু উত্তোলন করতে দিব না।
নুর ইসলাম হাওলাদার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন,‘ নদী ভাঙন রক্ষায় সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্টো যদিও ভাঙন কবলিত চরব্যারেট এলাকায় ইজারা দেওয়া হয়, তাহলে তো চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। এটা আমরা কোনো ভাবেই হতে দিব না। আমাদের মাটি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দিবো।
আরেক বাসিন্দা ফজলুল হাওলাদার বলেন,‘ ভোলার লোকজন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতেন। আমরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। যা পত্রপত্রিকায় তুলে ধরায় ভোলার প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ড্রেজার জব্দ করে এবং জড়িতদের আটক করে। এরপর প্রায় ১ বছর ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ। নদী ভাঙনও কমে গেছে। এখন নতুন করে বাউফলের একটি চক্র বালু মহল ইজারা নিতে পায়তারা শুরু করেছেন। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি- তারা যেনে কোনো প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ভাঙন কবলিত এলাকায় ইজারা না দেয়। বালু মহল ইজারা দিলে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, বুড়াগৌরঙ্গ নামে একটি বালুমহল ছিল। যার স্থান দেওয়া ছিল বাউফলের দিয়ারা কচুয়া এলাকা। ওই বালু মহল ইজারা স্থগিত রয়েছে।