বাউফলে উন্নয়ন কাজে বিএনপি নেতার বাঁধা প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
বাউফলে উন্নয়ন কাজে বিএনপি নেতার বাঁধা প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফলে ঐতিহ্যবাহী ‘কালাইয়া বন্দর সরকারি বড় পুকুর’ পাড় সংস্কার ও সৌন্দয্য বর্ধণ প্রকল্পের কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সালাম খান ওরফে ব্যারিষ্টার সালাম নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে । সরকারি খাস জমি নিজের দাবি করে উন্নয়ন কাজে বাঁধা দেওয়ার প্রতিবাদ ও উন্নয়ন কাজ শুরু করার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বড় পুকুরের উত্তর পাড়ের সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছেন বন্দরের শতাধিক ব্যবসায়ীরা।

ওই বিএনপি নেতা ব্যারিষ্টার সালাম কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য পদে রয়েছেন।

উন্নয়ন প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কালাইয়া বন্দরের সরকারি বড় পুকুরের পশ্চিম পাড় সংষ্কার ও সৌন্দয্য বর্ধণের জন্য পূবালী ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধা বা সিএসআর খাত থেকে প্রায় ২২ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প পাশ হয়। কালাইয়া বন্দর পূবালী ব্যাংক শাখা কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করতে গেলে বিএনপি নেতা সালাম খান পুকুর পাড়ের জমি নিজের দাবি করে ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ইউএনও।

এদিকে, সরকারি পুকুরের পাড়ের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে বাঁধা দেওয়ায় ফুসে উঠেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকেরা। ব্যবসায়ীরা সরকারি পুকুর পাড়ের উন্নয়ন কাজের বাঁধার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হাসান মুনসুর, ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল খালেক সরদার, সুমন হোসেন, মো. রুহুল কাজী, জাকির মুন্সী, আবদুল মালেক ও রাজন মনসুর সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিও ব্যবসায়ীরা।

বক্তারা বলেন,‘ সালাম একজন ভূমিদস্যু। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দরের ১৫০ শতাংশ খাস জমির মালিকা দাবি করেন। বিগত আওয়া্মী সরকারের আমলে সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করে কিছু জাল কাগজপত্র বানিয়েছেন। সেই জাল জালিয়াতির কাগজ দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে খাস জমি নিজের দাবি করেন।সরকারের খাস জমি উদ্ধার ও বন্দরের উন্নয়ন কাজ চালু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা।

কালাইয়া মার্চেন্টপট্রি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, কালাইয়া বন্দর দক্ষিাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা জড়িত। বন্দরের জমি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানান।

অভিযোগ অস্বিকার করে সালাম খান বলেন, এই জায়গা সংশ্লিষ্ট দপ্তর আমাকে বন্দোবস্ত দিয়েছে। নিম্ন আদালতের রায় আমার পক্ষে রয়েছে। সরকার আপিল করলে উচ্চ আদালত ওই জায়গার ওপর নিষেজ্ঞা দেয়। জায়গার সপক্ষে আমার সকল প্রমানাদি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া আছে। আমার বিরুদ্ধে যা রটানো হচ্ছে তা স্রেফ অপপ্রচার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, সৌন্দর্য বর্ধনের কাজটি সম্পন্ন হোক তা আমি নিজেও চেয়েছি। কিন্ত নির্ধারিত জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি।

পূবালী ব্যাংক কালাইয়া বন্দর শাখার ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত মোর্শেদ মিশুক বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা (কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসি্বিলিটি বা সিএরআর) খাত থেকে প্রতিবছর আমরা সামাজিক উন্নয়ন কাজ করে থাকি। এ বছর ২২ লাখ ব্যয়ে পুকুরের পাড় সংস্কার ও সৌন্দয্য বর্ধণের জন্য প্রকল্প পাশ হয়, তবে সালাম নামে এক ব্যক্তি পুকুর পাড়ের জমির মালিকানা দাবি করেন। যে কারণে কাজটি স্থগিত হয়ে আছে্য।