বরিশালে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা অনুষ্ঠিত, আজীবন সম্মাননা পেলেন নিরঞ্জন পাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১৪:৫৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা অনুষ্ঠিত, আজীবন সম্মাননা পেলেন নিরঞ্জন পাল

 বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সংরক্ষণ ও প্রসার এবং এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের স্বীকৃতি দিতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা-২০২৬। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ ইউনিয়নের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন পাল।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১২টায় নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা, বরিশাল’-এর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কনিষ্ঠ পুত্র ও শিল্পানুরাগী প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শুরু হয় মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা প্রদান পর্ব। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য ও কারুশৈলী তুলে ধরা হয়। এ উপলক্ষে মৃৎশিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্র, মনসার ঘট, পুতুল, শখের হাঁড়ি, মাটির খেলনা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পসামগ্রীর নমুনা প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া মৃৎশিল্পীরা সম্মাননা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে যুগের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তাঁরা সরকারের কার্যকর উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সম্মেলনে আসা দর্শনার্থীরা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ আয়োজন নতুন প্রজন্মকে মাটির শিল্প ও দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য সম্পর্কে শিশুদের ধারণা দিতেই তাঁরা সন্তানদের নিয়ে সম্মেলনে এসেছেন।

অনুষ্ঠানের অতিথিরা বলেন, মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাটির তৈরি পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে মৃৎশিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটবে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।