বরিশালে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত সাত দিনে এই বিভাগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা এ হিসাবের বাইরে রয়েছেন।
ফলে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলতি বছরে বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ হাজার ৬৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৯৫০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৬৯ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮ জন।
পিরোজপুরে বেশি আক্রান্ত
বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে পিরোজপুরে। এরপর রয়েছে ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও বরিশাল।
পিরোজপুরে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৮০৫ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৬৪ জন। মারা গেছেন একজন।
ঝালকাঠিতে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৩৪ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ১৮০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। মারা গেছেন একজন। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৯ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৬২৫ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৩ জন। মারা গেছেন একজন।
শেবাচিমে মৃত্যু ১৫
বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৫ জন। হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ২৭৬ জন ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১০৬ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৫৫ জন।
বরিশাল জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৭০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯০ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮০ জন। গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপে থাকা বরগুনায় এ বছর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৪৫ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৫ জন।
ভোলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০৩ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৭৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯ জন।
সাত দিনে গড়ে ২০০ রোগী ভর্তি
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বনিম্ন ১৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ২৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ২০০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রেফায়াতুল হায়দার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে বরিশাল নগরীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মসূচি চালাচ্ছে সিটি করপোরেশন। মশক নিধনে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ড্রেন, ডোবা-নালা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুইজন শ্রমিক নিয়ে ৩০টি কমিটি করা হয়েছে। তারা প্রতিদিন নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি জানান, প্রতি শনিবার সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।