বরিশালে আওয়ামী দোসর কালু ও সবুজের বিরুদ্ধে ইলিশ মাছ পাচারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১৯:৪৯ অপরাহ্ণ
বরিশালের তালতলী বাজারে বিএনপি নেতা পরিচয়ে আওয়ামী লীগের দোসর কালু ওরফে ছিডা কালু ও সবুজের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকার অবৈধ ইলিশ মাছ পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালু ও সবুজ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল ওরফে ল্যাংড়া টুটুলের অনুসারী ও আস্থাভাজন। অভিযোগ রয়েছে এসব অবৈধ ইলিশ মাছ পাচার করছে ভারতে পলাতক থাকা ল্যাংড়া টুটুলের কাছে। পাচারের টাকায় বরিশালের উত্তরাঞ্চলে ইতিমধ্যে শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছে আওয়ামী দোসররা।
এদিকে কথা হলে অবৈধ ইলিশ মাছ পাচারকারী মোঃ কালু সিকাদার ওরফে ছিডা কালু বলেন, আমি মাছের ব্যাবসায় ল্যাংড়া টুটুলকে এনেছি। তার শেল্টারে আমি কখনও রাজনীতি করিনি। ভিডিওতে মাছের ব্যাগ হাতে যাকে দেখেছেন,সে লোক আমি নয়। আমি ওই লোকের পাশে হাটতেছিলাম।
এদিকে জানা গেছে,বরিশাল থেকে অবৈধ ইলিশ মাছ পাচার করা তাদের নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার মৎস্য আইন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও এসব পাচারকারীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২৪ ঘন্টা বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী বাজার,লামছড়ি ও বরিশাল শহরের উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় এই চক্রটি অবৈধ ইলিশ মাছ বিক্রি ও পাচার করে যাচ্ছে।
তবে নিজ এলাকায় এসব আওয়ামী দোসররা এখন বিএনপির লোগো লাগিয়ে ঘুরছেন। ফলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল মহানগর বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, ছিডা কালু একটা মাছ দিলেই কতিপয় লোভী বিএনপি নেতা কাইত হয়ে যায়। আবার তাদের পাচার করা অবৈধ ইলিশ মাছের গাড়ী আমরা পথেঘাটে ধরলেও চাঁদাবাজী আখ্যা দেওয়া হয়।কিন্তু অবৈধ ইলিশ মাছের লোভনীয় অফারে এসব বিএনপি নেতাদের যে পস্তাতে হবে,তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারন লোভনীয় অফারের বিষয়ে সিনিয়র নেতারা সবাই-ই কমবেশি কিছু জানেন।
গোপন সূত্রে জানা গেছে,বিএনপি নেতার তকমা ব্যবহারের সুবাদে নিজ এলাকায় ও তাদের আত্মীয় স্বজনের ঘরে, প্রথমে অবৈধ ইলিশ মাছ মজুদ করা হয়। এরপর নির্বিঘ্নে অবৈধ ইলিশ মাছ বেচাবিক্রি ও পাচার করা হয়। কালু উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার হাশেম সিকদারের ছেলে ও সবুজের বাবার নাম চান্দু সিকদার। স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার তুষারের আপন চাচা হলেন সবুজ। তবে এ ঘটনায় সবুজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জানা গেছে, সম্প্রতি বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ মাছ পাচারকারীদের একটি তালিকা করা হয়। ৩৫ জনের ওই তালিকায় ছিডা কালু ও সবুজ রয়েছে শীর্ষে। কিন্তু বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি দাস বদলি হওয়ায় পাচারকারীদের তালিকা রহস্যজনক কারনে চাপা পড়ে যায়।
এদিকে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: হাদিউজ্জামান বলেন,বরিশাল সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তাকে তালতলী বাজারে অবৈধ ইলিশ মাছ বিক্রি ও পাচারের বিষয়টি দেখার জন্য- আমি বলে দিবো। প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে তালতলী বাজারে অবৈধ ইলিশ মাছ বিক্রি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।