পিরোজপুরে নিজ ঘরে গলাকাটা অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত জুলাই ২৫, ২০২৫, ২২:৪৯ অপরাহ্ণ
পিরোজপুর প্রতিবেদক ॥
পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ভৈরমপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে রোকেয়া বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতা রোকেয়া বেগম ছিলেন ওই গ্রামের মৃত মোক্তার হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন বাড়িটিতে।
তার বড় ছেলে লিটন হাওলাদার একই এলাকায় আলাদা বাড়িতে থাকেন। ছোট ছেলে মহসিন রয়েছেন বিদেশে। একমাত্র মেয়ে মাহফুজা আক্তার থাকেন স্বামীর বাড়িতে।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশেই থাকা চাচাতো দেবরের স্ত্রী হাওয়া বেগম খেয়াল করেন বৃদ্ধার ঘরের বাইরের বাতি জ্বলছে। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে মাঝখানের কক্ষে রোকেয়ার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
পরে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নাতি আমিনুল ইসলামকে ফোন করেন তিনি। আমিনুল এসে পুলিশকে খবর দেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, পেছনের দরজা খোলা ছিল, দাদি মাঝের ঘরে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে সামনের রুমের জানালাও কাটা দেখি। আমার ধারণা, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমের সঙ্গে কারো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না। তবে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা ছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের বড় ছেলে লিটন হাওলাদারও জমি নিয়ে বিরোধের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের একই এলাকার রুমান হাওলাদারের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারা মাঝেমধ্যেই হুমকি দিত। এ ছাড়া কারো সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা গলাকাটা অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।