দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এলজিইডির হিসাবরক্ষকের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত মে ১৫, ২০২৫, ২২:৩০ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি ॥
১১০১ কোটি টাকার গরমিল ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পিরোজপুর এলজিইডি হিসাবরক্ষক একেএম মোজাম্মেল হক খান বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টার দিকে চিকিৎসাধীনাবস্থায় মারা যান।
মোজাম্মেল হক খান মঠবাড়িয়া উপজেলার পশ্চিম ফুলঝুড়ি গ্রামের মৃত রইজুদ্দিন খানের ছেলে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, পিরোজপুর এলজিইডি অফিস ও জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সীমাহীন দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে তিনি বিভিন্ন সময় ৮টি মামলা দায়ের করেন।
এদের মধ্য গত ১৬ এপ্রিল বুধবার রাতে পিরোজপুর ডিস্ট্রিক্ট এ্যাকাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার মোহাসীন, এসএএস সুপার মাসুম হাওলাদার ও নজরল ইসলাম, সাবেক ডিস্ট্রিক্ট এ্যাকাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার আলমগীর হাসান এবং হিসাবরক্ষক একেএম মোজাম্মেল হক খানকে গ্রেপ্তার করে ১৭ এপ্রিল আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আদালত শুনানী শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এর মধ্যে হিসাবরক্ষক একেএম মোজাম্মেল হক খান গত বুধবার বিকেলে কারাগারে থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টার দিকে মারা যান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আ’লীগ সরকার পতনের পর সীমাহীন দুর্নীতির কারণে দেশব্যাপী আলোচনায় আসে পিরোজপুর এলজিইডি অফিস। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ ও এলজিইডি’র প্রধান কার্যালয় থেকে অনেকগুলো তদন্ত টিম পিরোজপুর এলজিইডি অফিসে সীমাহীন দুর্নীতির প্রমান পান।
কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা এবং এক হাজার ১০১ কোটি টাকা ব্যয়ে গরমিল পান তদন্ত কমিটি।
সর্বশেষ দুদক বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পিরোজপুর এলজিইডি অফিস ও জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজসেই সীমাহীন এ দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।