কলাগাছের ভেলায় ভেসে বানভাসী মানুষের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৫, ২১:৫০ অপরাহ্ণ
কলাগাছের ভেলায় ভেসে বানভাসী মানুষের সংবাদ সম্মেলন

কলাপাড়া প্রতিবেদক ॥
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে কলাগাছের ভেলায় ভেসে সংবাদ সম্মেলন করেছে বানভাসী মানুষরা।

সোমবার বেলা ১১ টায় উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদী তীর এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় ওই গ্রামের শতাধীক ভুক্তভোগী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বানভাসী মানুষের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন া হালিমা আয়শা।

তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে পশ্চিম লোন্দা গ্রামের টিয়াখালী নদী তীর সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে আসছে ২৫০টি পরিবার। এ নদীর তীরে বেড়িবাঁধ না থাকায় বহু বছর ধরে প্রতিনিয়ত দু’দফা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় ওই এলাকায়। তলিয়ে যায় ২০০ একর কৃষি জমি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসত ভিটা। বর্ষাকালীন সময়ে অনেকের চুলোয় জলেনা উনুন। নষ্ট হয়ে যায় জমির ফসল। তখন চলাচলের একমাত্র বাহন হয় ভেলা কিংবা নৌকা। ওই গ্রামের ৩ কিলোমিটার এলাকায় টেকসই রিং বেড়িবাঁধ নির্মান করলে এ অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে বানভাসী মানুষ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবি জানান তিনি।

কৃষক বেল্লাল হোসেন বলেন, দফায় দফায় জোয়ারের কারণে আমাদের জমি পানিতে তলিয়ে যায়, আমরা চাষাবাদ করতে পারিনা। সময় মত বয়স্ক লোকদের ডাক্তার দেখাতে যেতে পারিনা। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারে ঘরের ভিতর পানি ঢুকে সবকিছু তলিয়ে যায়। চুলায় পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে আমরা রান্না করতে পারি না। অনেক সময় পানিতে সবকিছু ডুবে যাওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম অন্তর বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ধরনা দেয়া সত্যেও আমাদের এই বেরিবাধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়নি। এজন্য আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুতই সময়ের মধ্যে টেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণ করা হয়।

শিক্ষার্থীর তৃতীয় শ্রেণির নাঈম ইসলাম বলেন, প্রতিদিন জোয়ার পানিতে আমাদের রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বাড়িতে আসতেও পানিতে তলিয়ে থাকে রাস্তাঘাট। স্কুলে যেতে আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। অনেক সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। আমাদের দাবি সরকারের কাছে টেকসই বেরিবাধ নির্মাণ করে দেয়া হয়।

এলজিইডির কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান সাদিক বলেন, ভুক্তভোগীরা আবেদন করলে বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।