৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৭:৩১

ইতালির স্বপ্ন ভেঙে লিবিয়ায় বন্দি বরিশালের অর্ধশতাধিক যুবক

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ২১ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার অর্ধশতাধিক যুবকের ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন এখন লিবিয়ায় বন্দি হয়ে পড়েছে। মানব পাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা ওয়ার্ক পারমিটের আশ্বাসে ইউরোপের পথে রওনা হয়ে লিবিয়ায় আটকে মানববেতর দিন কাটাচ্ছেন।

এদের মধ্যে গত চার মাসে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে লিবিয়ার জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন ১৫ যুবক। দেশে ফিরে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট ডুমুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান খান ও একই উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা মাদারীপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ এবং পশ্চিম সমরসিংহ গ্রামের আব্দুর রহিম সরদার বাদি হয়ে মানব পাচার চক্রের ৫ সদস্যের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নালিশী অভিযোগ তিনটি আমলে নিয়ে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে মামলা রুজু (নথিভুক্ত) করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের জামাল মোল্লা এবং তার ইতালি প্রবাসী দুই ছেলে জাকির মোল্লা ও সাকিব মোল্লা, জামাল মোল্লার দুই শ্যালক বাবুল বেপারী ও ইউপি সদস্য হাবুল বেপারীকে আসামি করা হয়েছে।

গৌরনদী থানায় তদন্তাধীন দুটি মানব পাচার মামলার আসামি জামাল মোল্লা ও তার দুই শ্যালক বাবুল বেপারী, হাবুল বেপারীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে করেছে পুলিশ। মামলার বাদী মেহেদী হাসান অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামিরা বাংলাদেশ থেকে গত বছরের ২৬ আগস্ট তাকে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে প্রথমে সৌদি আরব নিয়ে যান।

এরপর সেখান থেকে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে আটকে রাখেন। তাকে ঠিকমত খাবার না দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর লিবিয়ার পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়।

সেখানে মেহেদী প্রায় দেড় মাস কারাবন্দী ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন লোকের মোবাইল দিয়ে মেহেদী ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে তার করুণ অবস্থার কথা জানান। এরপর মেহেদীর অভিভাবকরা আসামি জামাল, বাবুল বেপারি, হাবুল বেপারির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ না দিলে মেহেদী লাশ হয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণ করে দাবিকৃত ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হলে গত ৪ জানুয়ারি মেহেদীকে দেশে ফেরত আনা হয়।

মামলার বাদী মেহেদী অভিযোগ করে বলেন, দেশে ফিরে জানতে পারি আমার মতো আরও ১৫ যুবক দেশে ফিরে এসেছে। তাদের অনেকের কাছ থেকে চক্রটি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

লিবিয়ায় বন্দি গৌরনদীর একাধিক যুবকের অভিভাবকরা জানিয়েছেন— গৌরনদী উপজেলার ৬০ জন ও আগৈলঝাড়ার ১০ জন যুবকের প্রত্যেকে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালির পথে পা বাড়ান। তারা ঋণ ও জমি বিক্রি করে ইতালি প্রবাসী জাকির মোল্লা, সাজু ও লিটনের কাছে এসব টাকা দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিভাবকরা আরও জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দালালরা তাদের ৪/৫ জন সহযোগীর মাধ্যমে লিবিয়ার বেনগাজি থেকে ৩টি স্পিডবোটে ইতালির উদ্দেশে পাঠালে সাগরপথেই ধরা পড়ে ৭০ জন।

এরপর তাদের ঠাই হয় লিবিয়ার কারাগারে। পরবর্তীতে মানব পাচার চক্রের মূলহোতা জাকির মোল্লা গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার তাদের কারাগার থেকে বের করে দালালের জিম্মায় রাখেন। এরমধ্যে ১৫ যুবক মুক্তিপন দিয়ে দেশে ফিরে আসলেও অর্ধশতাধিক যুবক এখনও লিবিয়ায় দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, থানায় দুইটি মানব পাচার মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি বর্তমানে বরিশাল কারাগারে এবং দুই আসামি বিদেশে পলাতাক রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo