৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৫:৫৫
শিরোনামঃ
৯০০ টাকার জন্য যুবকের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ কলাপাড়ায় বিচারের দাবিতে স্বামীর মরদেহ নিয়ে থানায় স্ত্রী-সন্তান জুয়ার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব, শিক্ষকসহ সাইবার মামলায় গ্রেপ্তার ২ সরিয়ে দেওয়া হলো বরিশালের ডিআইজিকে, নতুন দায়িত্বে মোস্তাফিজুর রহমান দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ বরিশালে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম নাব্য সংকটে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট, ঈদের আগে ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা বরিশালে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন উপনির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফর স্থগিত পাথরঘাটার সুজন হত্যা মামলায় র‍্যাব-৮’র অভিযানে ৪ আসামি গ্রেপ্তার

কলাপাড়ায় বিচারের দাবিতে স্বামীর মরদেহ নিয়ে থানায় স্ত্রী-সন্তান

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ২৭ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বামীর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্বামীর মরদেহ নিয়ে থানায় আসলো স্ত্রী ও তার দুই সন্তান। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে এ মরদেহ নিয়ে থানায় উপস্থিত হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শত শত এলাকাবাসী থানার সামনে ভীড় করে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের পরিবারের দাবি, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের মারধরে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কলাপাড়া থানা পুলিশ জানায়, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী খান স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে থাকেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এলাকার এক ব্যক্তির ফেসবুকে ইউপি মেম্বর জহিরুল ইসলামের রান্না করার ছবির পোস্টে ইদ্রিস আলী একটি কমেন্ট করেন।

কমেন্টে লেখেন রাতে গরু চুরি করে আর দিনে পাকায়। তারে ফেসবুক কমেন্টে ক্ষিপ্ত হন নীলগঞ্জের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম। এরপরই তাকে বিভিন্নভাবে ফোনে হুমকি দেয়া হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ।

নিহত ইদ্রিস আলীর স্ত্রী আমেনা খাতুন বলেন, তার দুই সন্তান নিয়ে এখন কোথায় যাবেন। সাধারণ একটি ঘটনা নিয়ে তার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের ছেলে মো. পারভেজ ও ভাই আলমগীর খান বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে নীলগঞ্জের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ইদ্রিস আলীকে তার অফিসে ডেকে পাঠান। ইদ্রিস আলী অফিসে এসে তার কমেন্টের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু তাকে ক্ষমা না করে উল্টো মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে ইদ্রিস।

তারা বলেন, ঘটনার রাত থেকে ইদ্রিস আলী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবশেষ সোমবার আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।তাদের অভিযোগ, মেম্বর ও তার সহযোগীদের মারধরেই ইদ্রিস আলী মারা গেছে। তারা এ ঘটনার দোষীদের শাস্তি দাবি করে মৃতদেহ নিয়ে থানায় এসেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঐদিন প্যানেল চেয়ারম্যানের অফিসে গিয়ে নিহত ইদ্রিস অনেক অনুনয় বিনয় করেছেন। কিন্তু কেন সে মেম্বারের বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছে এ কারণে তাকে মারধর করে।তারা এ সময় বাধা দিতে গেলে তাদেরও অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। এদিকে ইদ্রিস আলীর মৃতদেহ থানায় আসলো পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

কলাপাড়া থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুরতহালে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তবে ঘটনার সাথে জড়িত নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম নিহত ইদ্রিস আলীকে অফিসে ডাকার কথা স্বীকার করলেও মারধরের কথা স্বীকার করেননি। তিনি মুঠো ফোনে বলেন, নির্বাচনের সময় তার বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দেওয়া কে কেন্দ্র করে সমর্থকরা কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়। তবে তিনি এই বিষয়ে তাকে কিছুই বলেননি। তার বিরুদ্ধে মারধরের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo