৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:০৫

ঐতিহ্যবাহী লালার দীঘি ভরাট বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোটিশ

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৮২ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরের রূপাতলী এলাকায় ঐতিহ্যবাহী লালার দীঘি ভরাট বন্ধে নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ভরাট কার্যক্রম চালানো জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত নোটিশ দেন অধিদপ্তরটির বরিশাল জেলা সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ বরিশাল উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রায়হান আলীকে দেওয়া নোটিশে পরিবেশ অধিদপ্তর বলেছে, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা অনুযায়ী জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট কিংবা অন্য কোনোভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু আপনারা বরিশাল নগরের ২৪ নং ওয়ার্ডের রূপাতলীতে লালার দীঘিটি ভরাট করছেন। যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।’

পরিবেশ অধিদপ্তর নোটিশে অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে মাটি, বালু ও বাঁশ অপসারণ করে দীঘিটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। অন্যথায় মামলা অথবা ক্ষতিপূরণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে।

জানা গেছে, সম্প্রতি লালার দীঘির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ পাইপের মাধ্যমে ভরাট করে ফেলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল নগরের রূপাতলী হাউজিং স্টেট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দীঘির বিশাল অংশ নিয়ে তারা পাইলিংও দিয়েছে। প্রায় ৫ একর ৮০ শতাংশের দীঘিটি অযত্নে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রূপাতলী হাউজিং স্টেট উপবিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, লালার দীঘির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ জমি ১৯৭৭-৭৮ সালে রূপাতলী হাউজিং স্টেটের নামে অধিগ্রহণ করেছে সরকার। ওই জমিটি তাঁরা বালু দিয়ে ভরাট করে প্লট করবেন। তিনি দাবি করেন দীঘি নয়, পাড় ভরাট করেছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশালের সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, হাউজিং কর্তৃপক্ষকে সরকার অধিগ্রহণ করে দিলেও দীঘি ভরাট করে জলাশয়টির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারে না। বেলা দীঘি ভরাট বন্ধে সরকারের তিন সচিবসহ ৯ জনকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ভরাট বন্ধ করে বাঁশ, কাঠ ও বালু তুলে না ফেললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, ‘গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কিছু কাগজপত্র নিয়ে এসেছিল। আমরা দেখে তাদের জানিয়েছি, ওই কাগজপত্র অস্পষ্ট। তাই দীঘি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo