

অনলাইন ডেক্সঃ
শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে চলমান অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাসহ হাসপাতালের ৭৩ জন স্টাফের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে।বুধবার দিবাগত রাতে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সফিউল্লাহ (২৩) বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করেন।এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে দিতে রড, লাঠি, রামদা ও চাপাতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত জখম করে এবং তাদের মোবাইল, মানিব্যাগ, আইডিকার্ডসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, আহত শিক্ষার্থীদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি, বরং তাদের গুম-খুনের হুমকি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চালানো হয়।এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস, ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ, রাব্বী, যুবলীগ কর্মী ফয়সাল, হাসপাতাল স্টাফ জুয়েল চন্দ্র শীল (পূর্বের মামলার বাদী), সেলিনা, নাজমুল আলম নাঈম, রফিকুল পাটোয়ারী, সাজ্জাদ হোসেন সাগর, পনু শেখ, শাকিল, সৈয়দ নান্নান ও বিপ্লব শরীফসহ আরও অনেকে।এদিকে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। নগরের অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সদর রোডসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য। অথচ আমাদের ওপর হামলা হলো, সহযোদ্ধা সুহানকে গ্রেপ্তার করা হলো। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সুহানের মুক্তি হয়নি।তিনি বলেন, এই হামলা শুধু আমাদের নয় এই দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আঘাত। আমরা কেউ পিছু হটব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।