
কুয়াকাটা সংবাদদাতা ॥
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩০০ মিটার নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ ক্ষতিগ্রস্ত হাওয়ায় সেই কাজের মান পরিদর্শন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
পরিদর্শন শেষে দুদক জানায়, এতগুলো টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়কটি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কটি সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। এ বিষয়ে আমাদের দুদক কার্যালয় একটি অভিযোগ দায়েরের পরই আমরা তদন্তে নামি।
গতকাল সোমবার কুয়াকাটা পর্যটন পার্ক-সংলগ্ন এই কাজের পরিদর্শন করে দুর্নীতি দমন কমিশনের পটুয়াখালী জেলার সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাসের নেতৃত্ব একটি টিম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, দুদকের উপসহকারী পরিচালক খালিদ হোসেন, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা।
পরিদর্শন শেষে সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস বলেন, এই প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আমাদের দুদকে জমা পরে, তারই প্রেক্ষিতে আমাদের এই অভিযান। সরেজমিনে এসে আমরা যেটুকু পেয়েছি, এটা একটি অপরিকল্পিত প্রজেক্ট। এই প্রজেক্ট ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার, যার মধ্যে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পুরো টাকাটাই পানিতে ভেসে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রজেক্টের শুরুতে একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। তা করা হয়নি, আমাদের কাছে জমা পড়া অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। আমরা মাঠে যা পেয়েছি এটা রিপোর্ট উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেব। কমিশন থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিরা কুয়াকাটার তেমন কোনো উন্নয়ন বা পরিবর্তন না করতে পারলেও দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এটা স্পষ্ট বলা যায়। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে গাইডওয়াল না করেই নির্মাণ করেছে। যাতে সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেঙে গেলে পুনরায় সংস্কার করার জন্য নতুন বাজেট দিতে পারে। এভাবে সবখানে তারা দুর্নীতি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন মন্দির থেকে ডিসি পার্ক পর্যন্ত ১৩০০ মিটার এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ করতে পারনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ৬২ দিন সময় বারানো হয় প্রথম ধাপে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো কাজই করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং বাড়িয়ে দেওয়া সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারেনি তারা। বর্তমানে সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ রয়েছে।