
রাইজিং ডেক্সঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের বিরল প্রজাতির ‘বাদুড় মাছ’ ধরা পড়েছে। মাছটি স্থানীয় এক আড়তে বিক্রি হয়েছে। তবে মাছের ক্রেতা জানিয়েছেন, এটি ঢাকার বাজারে বিক্রির জন্য আনা হচ্ছে।
শুক্রবার ( ৯ আগস্ট) বিকেলে মাছটি মহিপুরের একটি মৎস্য আড়তে বিক্রির জন্য আনা হয়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সরোয়ার হোসেন মাছটি ৫ হাজার টাকায় কিনে নেন।
জেলে মো. আবু হানিফ জানান, ৫ দিন আগে তিনি ইলিশ শিকারের জন্য বঙ্গোপসাগরে যায়। সাগরের চর বিজয় সংলগ্ন এলাকায় জাল ফেললে এ মাছটি ধরা পড়ে। মাছটির ওজন ২০ কেজি। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১ ফুট করে। তবে এই মাছটির লেজ প্রায় ২ ফুট লম্বা। ২৫০ টাকা কেজি দরে পাঁচ হাজার টাকায় মাছটি সরোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন।
মাছটির ক্রেতা সরোয়ার হোসেন জানান, এ মাছটি ঢাকার বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হবে। বিরল আকৃতির এ মাছটিকে এক নজর দেখতে উৎসুক জনতা মৎস্য আড়তে ভিড় করেন বলে জানা যায়।
মহিপুরের জেলেরা জানান, সাধারণত এই মাছগুলো আড়তে দেখা যায় না। এ কারণে তেমন চাহিদা নেই। তাই দামও তুলনামূলক কম। স্থানীয় জেলেদের কাছে মাছটি ‘বাদুড় মাছ’ নামে পরিচিত।
তবে সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, মাছটি সামুদ্রিক ‘রে গোত্রীয়’। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘লম্বা লেজী পাপড়ি মাছ’ (Rhinoptera Javanica)। ইংরেজিতে এটিকে ব্যাট রে (Bat Ray) বা ঈগল রে (Eagle Ray) বলা হয়।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ও সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষজ্ঞ মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের মাছ সাধারণত ইন্দো–প্যাসিফিক ও ফিলিপাইন সাগরে বিচরণ করে। বঙ্গোপসাগরে বা ভারত মহাসাগরেও এদের দেখা মেলে। আকৃতি বা চেহারায় সাদা পেটের সঙ্গে কালো বা বাদামি পিঠ, একটি লম্বা-পাতলা লেজ আছে। পানির মধ্যে চলাচলের জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রসারিত মাথা ও বাদুড়ের ডানার মতো দুটি ডানা আছে। এদের স্ত্রী প্রজাতি ৬ ফুট পর্যন্ত বড় হতে পারে এবং ওজনে ৯০ কেজি পর্যন্ত হয়। পুরুষ প্রজাতি আকারে ছোট হয়।
কামরুল ইসলাম আরও বলেন, এই মাছ একসঙ্গে ২ থেকে ১০টি বাচ্চা প্রসব করে, যার গর্ভকালীন সময়কাল ৯ থেকে ১২ মাস। ব্যাট রে (Bat Ray) বা ঈগল রে (Eagle Ray) ১৮০ মিটার গভীরতা থেকে উপসাগর ও বালুময় সমুদ্র তটরেখার অগভীর জলে পাথুরে, সমতল বালুকাময়, কর্দমাক্ত সমুদ্রতল পছন্দ করে। খাদ্য হিসেবে এরা বালুকাময় সমুদ্রতলে মলাস্ক, ক্রাস্টেসিয়ান ও ছোট মাছ শিকার করে বেঁচে থাকে। ব্যাট রে বা ঈগল রে হাঙর গোত্রীয় হওয়ায় এবং এদের পিঠের চামড়া মোটা হওয়ায় খাবার হিসেবে খুব একটা সুস্বাদু নয়।