১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:৫২

উপকূলজুড়ে অতিভারী বৃষ্টিপাত, জনজীবন বিপর্যস্ত

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৬১ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পশ্চিম ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এরসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা যুক্ত হয়ে উপকূলজুড়ে শুরু হয়েছে অতিভারী বৃষ্টিপাত।

এরই অংশ হিসেবে পটুয়াখালীতে সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে পটুয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ডুবে গেছে সবুজবাগ, শেরেবাংলা সড়ক, পুরান বাজার, নতুন বাজার, এসডিও রোড ও তিতাস মোড়সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। একইসঙ্গে গ্রামাঞ্চলেও তলিয়ে গেছে বহু মাছের ঘের ও পুকুর।

এদিকে কুয়াকাটা উপকূলসহ পুরো উপকূলীয় এলাকায় বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। ছোট-বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে এমন আশঙ্কায় পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানিয়েছেন, পটুয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, আমরা জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ৫-৬টি মোবাইল টিমে ৫০- ৬০ জন স্টাফ কাজ করছে। পৌর এলাকার সব স্লুইস গেট খোলা রেখেছি, আশা করছি ভাটার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধতা কমে যাবে।

প্রচণ্ড বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজেও উপস্থিতি কমেছে। পটুয়াখালী সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা পেছানোর পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালকসহ শ্রমজীবী মানুষজন বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে পারছে না। ছোট ব্যবসায়ীরাও দোকান খুলে বসতে পারছেন না, ফলে আয় বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল উপজেলার অন্তত অর্ধশত চর এলাকার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। প্রতি দফা উচ্চ জোয়ারের পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করা মানুষজন পড়েছে চরম দুর্ভোগে। চর মোন্তাজ, চর আন্ডা ও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সড়কপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, শহরের নালা-নর্দমা পরিষ্কার না থাকায় অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানি নামতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব বলেন, আমরা প্রতিটি উপজেলার খোঁজখবর রাখছি, এখন পর্যন্ত কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্তের তথ্য পাইনি। বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামতে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বর্তমানে আমাদের কাছে ৪২০০ জিও ব্যাগ মজুদ আছে। এ ছাড়া স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দেড় মিটার পানির উচ্চতা বেড়েছে, তাই বেড়িবাঁধের বাইরে যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন তাদেরকে বেড়িবাঁধের ভেতরে আসার জন্য সচেতন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নজরে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

অপরদিকে বৈরী আবহাওয়ায় ভোলা থেকে ১০টি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এর মধ্যে ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটটি বন্ধ চার দিন ধরে। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসবাসরত বাসিন্দারা।

আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন ভোলা নদী বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন।

তিনি বলেন, অবিরাম বৃষ্টিতে সমুদ্রে তিন নম্বর সংকেত জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। নদী বন্দরে এক নম্বর সংকেত দেখালেও ভোলার কয়েকটি রুট এই আবহাওয়ায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এজন্য ওইসব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটটি চার দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোলার অভ্যান্তরীন ১০টি রুটের নৌযানও বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দেওলতখান টু আলেকজান্ডার টু মির্জাকালু রুট, বেতুয়া-ঢাকা, হাতিয়া-মনপুরা, চরফ্যাশন-মনপুরা, চরফ্যাশন, হাতিয়া, মণপুরা, তজুমদ্দিন থেকে ঢাকার রুট। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এসব রুটে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই।

বন্দর কর্মকর্তা আরও বলেন, ভোলা থেকে ঢাকা রুটে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo