

বানারীপাড়া সংবাদদাতা ॥
বানারীপাড়া পৌর শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের সিংহভাগ বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের মধ্যে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টিসহ খানাখন্দে পরিণত হয়ে পুরো সড়ক চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এসব সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা জনসাধারণের পায়ে হেঁটে চলতে গিয়েও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিতেই পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কের ওপর হাঁটু সমান পানি জমে যায়। যার ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীদের।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কের পিচ,পাথর ও খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একটু বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়। বেহাল হয়ে পড়া এসব সড়কগুলোতে এখন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগেই আছে।
এছাড়া অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিতেই পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কের ওপর হাঁটু সমান পানি জমে পৌরবাসীর অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর শহরের টিঅ্যান্ডটি মোড় থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ-পূর্ব কর্ণার পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা চরম বেহাল। অবশ্য পৌর শহরের মধ্যে হলেও টিঅ্যান্ডটি থেকে ফেরীঘাট পর্যন্ত প্রধান এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের। গত বছরের শেষের দিকে এর কিছু অংশ আরসিসি ঢালাই দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে।
বরিশাল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল হোসেন বলেন, এ সড়কের বাকি অংশও সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এদিকে পৌর সভার ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড হয়ে বাইপাস সড়ক দিয়ে বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ মোড় আবার কলেজ মোড় থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড হয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ নাজিরপুর হাই স্কুল-বন্দর বাজার এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা থেকে বাসস্ট্যান্ড ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি মন্দির হয়ে রায়েরহাট ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকবাংলো মোড় থেকে ঘোষের বাড়ি হয়ে বানারীপাড়া হাই স্কুল মসজিদ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড় মসজিদ থেকে এমএ লতিফ বহুমুখী আলিম মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কগুলো বেহাল হয়ে সর্বসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
একই চিত্র পৌর শহরের অন্য ওয়ার্ডগুলোর সড়কেরও। বন্দর বাজারের ভেতরের রাস্তাগুলোর (গলি) অবস্থাও বেহাল। এছাড়া রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করা ও রাস্তা কেটে ব্যক্তিগত বাসা-বাড়ির পানির লাইন ড্রেনের সাথে সংযোগ দেওয়ার ফলে রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগী পৌরবাসী জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৪/৫ বছর ধরে পৌরসভার সড়কগুলো সংস্কার না করা ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় প্রতিটি সড়ক খানাখন্দে একাকার হয়ে গেছে। পৌর শহরের ১৪টি খালের অধিকাংশ বেদখল হয়ে গেছে।
খালগুলো উদ্ধারে পৌর কর্তৃপক্ষকে কখনও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ফলে পৌরসভার অধিকাংশ খাল, শতাধিক পুকুর ও ডোবা-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, দীর্ঘদিনেও ড্রেন ও ময়লা আর্বজনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া খাল-ডোবানালা পরিষ্কার না করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
গেল ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে অপসারিত বানারীপাড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীলের দ্বিতীয় মেয়াদে (২০২০-২৪) পৌরসভায় দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তিনি মেয়র থাকাকালীন তার কাছে সড়ক উন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তখন বলেছেন, শিগগিরই বিশাল বরাদ্দ আসতেছে। পৌর শহরে উন্নয়ন কাজ করার মত অবশিষ্ট জায়গাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। গালভরা এসব মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ফাঁকাবুলির মাঝে আটকে ছিল তার ‘কল্পিত উন্নয়ন’। তার প্রায় দুই মেয়াদে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তাও ছিল খুবই নিম্নমানের।
অভিযোগ রয়েছে, মেয়র নিজে কোনো কাজ সরেজমিন তদারকি করতেন না। অফিসের যাদেরকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হতো তাদেরকে ম্যানেজ করে ঠিকাদাররা নামকাওয়াস্তে কাজ করে বিল তুলে নিতেন। পৌরসভার বেশীরভাগ কাউন্সিলর ঠিকাদারি কাজ করতেন ফলে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না।
এদিকে নির্বাচিত মেয়রকে অপসারণ করে পৌর প্রশাসক নিযুক্ত করার পরে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী মহসিন রেজা জানান, দুই বছর পূর্বে সিটিসিআরপি প্রকল্পে পৌরসভার বেশকিছু রাস্তা-ড্রেন সংস্কারের স্কিম দেওয়া হয়। ফলে দুই বছর ধরে সেই প্রকল্পের বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পৌরসভার অর্থায়ন কিংবা অন্যকোনো প্রকল্পের মাধ্যমে পূর্বে প্রকল্পে দেওয়া ওই রাস্তাগুলো সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া টেকসই নগর উন্নয়ন প্রকল্পে ২০ কোটি টাকার স্কিম দেওয়া আছে। এসব বরাদ্দ পেলে রাস্তাগুলো সংস্কারগুলো করা হবে। পানির কারণে কার্পেটিং রাস্তা সহসা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে আরসিসি ঢালাই রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া পৌরসভার নবাগত প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ বলেন, পৌর শহরের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়া বেহাল সড়কগুলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পৌরসভায় এ সংক্রান্ত মিটিংও করা হয়েছে।