১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৮:৫২

কাঁঠালিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানকে পরিষদ থেকে বের করে দিয়ে মারধরের অভিযোগ

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৫ সংবাদটি পঠিত

ঝালকাঠি সংবাদদাতা:

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপনকে পরিষদ থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকেও মারধর করা হয়। মোস্তফা কামালের অভিযোগ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি (বহিস্কৃত) শামসুল আলমের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন বিএনপির নেতাকর্মী এই হামলা ও মারধর করেন।

মঙ্গলবার সকালে চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন উপজেলার সেন্টারের হাট সংলগ্ন শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাঁকে মারধর করে কচুয়া বাজারে নিয়ে যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় তাঁর গায়ের জামা ছিড়ে ফেলা হয়।

ঘটনার পর কাঁঠালিয়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এ মারধরের ঘটনার ৫৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

মাহমুদ হোসেন রিপন শৌলজালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

সম্প্রতি একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। অপরদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

হামলার ঘটনার সঙ্গে রিয়াজ, সোহাগ, মাসুম, রাজিব ও মোশাররফ মোল্লাসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শৌলজালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি (বহিষ্কৃত) ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শামসুল আলমের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপনের পূর্ব শত্রুতা ছিলো।

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে শামসুল আলম বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে চেয়ারম্যান রিপনকে দায়িত্ব থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কাঁঠালিয়ায় ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পলাতক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্যানেল চেয়ারম্যানরা। শুধুমাত্র শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন প্রথমে পলাতক থাকলেও পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের যোগসাজশে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিএনপির বহিস্কৃত সাবেক সভাপতি শামসুল আলম বলেন, উত্তেজিত জনতা চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেনকে মারধর করেছে। এ ঘটনা সাথে আমি জড়িত নই।

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মং চেনলা বলেন, মরধরের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এসময় কাউকে পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo