

রাইজিং ডেক্সঃ
২০২০ সালের ২০ মে উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। সেই তাণ্ডব এখনো ভুলতে পারেননি পাথরঘাটার মানুষ। উপকূলীয় বাঁধে সৃষ্টি হওয়া ক্ষত এখনো রয়ে গেছে, যা মেরামত না হওয়ায় প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়েই নতুন আতঙ্কে ভোগেন তারা।
পাথরঘাটার রুহিতা ও পদ্মা গ্রামের উপকূলবাসীর ভাষ্য, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও আম্পানের আঘাতে ভেঙে যাওয়া রক্ষা বাঁধের বড় অংশ আজও মেরামত হয়নি।
কোথাও মেরামতের কাজ শুরুই হয়নি, কোথাও আবার বাঁধ রয়ে গেছে সরু আলের মতো। ফলে জোয়ারের পানিতে পদ্মা গ্রাম প্রায়শই প্লাবিত হয়।
পদ্মা থেকে রুহিতা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রক্ষা বাঁধ রয়েছে ঝুঁকিতে। এবার ‘মন্তা’ আঘাত হানলে এই অঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভরা পূর্ণিমার কারণে নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ৩–৪ ফুট বাড়বে, যা ভাঙা বাঁধ দিয়ে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত করতে পারে।
রুহিতা গ্রামের জাকির হোসেন জানান, আম্পানের পর পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও বাঁধ সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমন অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় ও ভরা জোয়ার একসঙ্গে হলে গ্রামের অস্তিত্ব থাকবেই না।
স্থানীয় জেলে ইউসুফ মাঝি বলেন, আম্পানে ঘরবাড়ি, জমি, নৌকা সব ভেসে গিয়েছিল।
বাঁধে কিছু অংশে গাছ লাগানো হলেও তা টিকেনি। স্থায়ী বাঁধ না হলে পরের ঘূর্ণিঝড়েই গ্রাম রক্ষা করা যাবে না।
বলেশ্বর নদীর কোলঘেঁষা পদ্মা ও রুহিতা গ্রাম সুন্দরবনের সন্নিকটে। এখানকার বাসিন্দা মাহিনুর বেগম বলেন, আমাদের চারপাশেই নদী, সাগর আর বন। বাঁধই একমাত্র ভরসা।
কিন্তু সেটাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। গত এক দশকে মে মাসেই আটটি বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। ২০০৯ সালের আইলা, ২০১৩-র মহাসেন, ২০১৬-র রোয়ানু, ২০১৭-র মোরা, ২০১৯-র ফণী, ২০২০-র আম্পান, ২০২১-র ইয়াস ও ২০২৪ সালের রিমাল উপকূলে ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, সিডরের পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই মে মাসে ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় না এলেও এর প্রভাবে নদীর পানি বেড়ে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। উপকূলবাসীর কাছে মে মাস মানেই আতঙ্ক।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহেই ‘ঘূর্ণিঝড় মন্তা’ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এতে করে পাথরঘাটাসহ উপকূলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙা বাঁধ মেরামত ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে, ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।