২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১:১৫

অবশেষে ববির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারকে অব্যাহতি

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫
  • ৫৪ সংবাদটি পঠিত

ববি প্রতিনিধিঃ

শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পরে অবশেষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য় অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়ো হয়েছে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত সোমবার রাত থেকে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুটি প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর মোল্লা। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষক এবং ঢাকা ও বরিশালের গেস্ট হাউজের আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

তার পদত্যাগের চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, আরো তিনজন শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। তাদের পদত্যাগপত্রের ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। আইকিউএস এর পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. মো. সোহেল চৌধুরী। তিনি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। এছাড়া শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মামুনুর রহমান। তিনি অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

শিক্ষার্থীরা জানান, ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার রাত থেকে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের পাঁচজন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবারো অনশনস্থলে আসেন, বাকি চারজনকে স্যালাইন দেওয়া হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন ছেড়ে উঠবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, উপাচার্যের ডাকা ৮৭তম সিন্ডিকেট সভাকে অবৈধ দাবি করে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে নামেন একদল শিক্ষার্থী। উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাওয়ের একপর্যায়ে গেট ভাঙচুর করনে তারা। এই ঘটনায় ১৭ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা করা হয়।

এরপর মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে উপাচার্যকে একাধিকবার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে মুচলেকা দেওয়ার শর্তে মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন উপাচার্য। এই প্রস্তাবের পর ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তারপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে মাঠে নামেন তারা।

গত ৭ মে উপাচার্যের বাসভবনের ফটকে তালা দিয়ে পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। পদত্যাগ না করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেন তারা।

এরই মধ্যে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির মতামত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে, গত ৮ মে ববি উপাচার্যকে অপসারণের প্রস্তাব দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

এরপরেই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানান শিক্ষকদের একাংশ। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল এবং ১২ মে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo