২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৭:০৩

বরিশালে ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে তরুণীকে ভয়-ভীতি

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় শনিবার, ১০ মে, ২০২৫
  • ১০০ সংবাদটি পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে তরুণীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছেন পরিবারটি। শনিবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী তরুণী।

তিনি জানান, গত বছর বরিশালের একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে নার্সিং কোর্স শেষ করেছেন। বাবা মারা যাওয়ার পরে বৃদ্ধা মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে পৌরসভার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। একই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে বাকেরগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুহুল আমিনের সাথে পরিচয় হয়। বিয়ে করবে করবে বলে দীর্ঘদিন শারীরিক সর্ম্পক করে আসছিল।

এক সময়ে বুঝতে পারি রুহুল আমিন আমাকে আশ্বাস দিলেও বিয়ে করবে না। এজন্য চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করি।

৩ মাস পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি থানা পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো সমঝোতার নামে গত ৭ মে বুধবার রাত ১১টায় সাবেক এমপি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান স্থানীয় দুই যুবদল নেতার মাধ্যমে আমি ও আমার মাকে তার বাসভবনে ডেকে নেন।

আমি গিয়ে দেখতে পাই সেখানে আগে থেকেই বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের নবাগত অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই তোফাজ্জল উপস্থিত রয়েছেন।

সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান আমার কোনো কথা না শুনেই তিনি আমাকে রুহুলের নামে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বলেন। মামলা তুলে না নিলে সকালের মধ্যেই তিনি মামলা শেষ করে দেবেন। এমনকি তিনি আমার নামে ২১১ ধারায় আইন প্রয়োগ করাবেন বলেও হুমকি দেন।
মামলার বাদী বলেন, এর আগে বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির জোমাদ্দার ও পৌর বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ মাহমুদুর রহমান রিমন আমার বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে।

এতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। বর্তমানে আমার অবস্থা এমন যে, যেকোনো সময় আমি জুলাই আন্দোলনে দুমকি থানার শহীদ জসিম উদ্দিনের কন্যা লামিয়ার মতো আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারি। এর দায় পুলিশ প্রশাসন এবং হুমকিদাতা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশের আইজিপি, ডিআইজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই তোফাজ্জেলকে প্রত্যাহার চেয়েছেন তিনি।

বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। আবুল হোসেন খান সাবেক এমপি, আমি সেখানে যেতেই পারি। তবে সঠিক তথ্য হচ্ছে ওইদিন ওই বাসায় যাইনি এবং ওই তরুণীর সাথে আমার দেখা হয়নি। বাকেরগঞ্জবাসী পুলিশের ওপর একটু বেশি নেতিবাচক এবং একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে এমন অসত্য তথ্য প্রচার করাচ্ছে।

ওসি বলেন, মামলাটি তদন্ত প্রায় শেষ প্রতিবেদন দাখিলের পর্যায়ে চলে এসেছে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় জনগণ অবগত রয়েছে এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসেছিল। পরে সমাধানের জন্য বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে আসে। সমাধানের জন্য যা বলা দরকার তাই বলেছি। তবে জোরপূর্বক মামলা তুলে নিতেই হবে এমনটা বলা হয়নি। সমাধানের জন্য যা বলার উভয় পক্ষকে সেটাই বলা হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo