৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:২৮

বরিশালে বাজারে সবজিতে নেই স্বস্তি, বেড়েছে মাংস ও ডিমের দাম

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫
  • ৫৫ সংবাদটি পঠিত

মাইদুল হাসানঃ

গত দুই সপ্তাহের তুলনায় বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কমলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরাতে পারেনি সাধারণ মানুষের মধ্যে। অপরদিকে এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে মাছ-মাংস-ডিমসহ মুদি দোকানের পণ্য।

শুক্রবার সকালে নগরীর বাংলা বাজার, রূপাতলী বাজার, সাগরদী বাজার, চৌমাথা বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি টক টমেটো ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৭০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৭০ টাকা, শসা হাইব্রিড ৫০, করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, পেঁপে ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, পটোল হাইব্রিড ৬০, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা করে। এছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়।

এ ক্ষেত্রে প্রতি কেজি টক টমেটোর দাম ১০ টাকা, লম্বা বেগুনের দাম ১০ টাকা, শসার দাম ১০-২০ টাকা, করলার দাম ১০ টাকা, কাঁকরোলের দাম ৪০ টাকা, ঢেঁড়সের দাম ১০ টাকা, পটোলের দাম ১০-৩০ টাকা, চিচিঙ্গার দাম ১০ টাকা, বরবটির দাম ১০ টাকা কমেছে। আর প্রতি পিসে লাউ ও ফুলকপির দাম কমেছে ১০ টাকা করে। প্রতি হালিতে লেবুর দামও কমেছে ১০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজিতে দেশি গাজরের দাম ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমে যাওয়ার বিষয়ে নগরীর বাংলা বাজারের সবজি বিক্রেতা মিজান হোসেন বলেন, যেসব সবজির দাম কমেছে সেগুলো এই সিজনেরই। গরমকালের সবজি আসতে শুরু করেছে, তাই দাম কমে গেছে। সামনে হয়তো আরও কমবে, যদি কোনও ঝামেলা না হয়।

বাজার করতে আসা মনির হোসেন বলেন, সবজির দাম কমেছে এটা সত্যি। কিন্তু দাম কম এটা বলা যাবে না। কমলেও সবজির দাম এখনও অনেক বেশি।

আরেক ক্রেতা মাইনুদ্দিন বলেন, সব সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে হওয়া উচিত। দাম কমলে ভালো করে কমতে হবে। শুধু নামেই দাম কমলে চলবে না।
আলু-পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কমেছে আদা-রসুনের দাম।

আকারভেদে প্রতি কেজি নতুন ক্রস পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা। এর মধ্যে ছোট আকারের পেঁয়াজ ৫৫ টাকা এবং বড় আকারের পেঁয়াজ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। এছাড়া সাদা ও লাল আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া দেশি রসুন ১২০-১৩০ টাকা, চায়না রসুন ২০০ টাকা, চায়না আদা ১৮০-২০০ টাকা, ভারতীয় আদা ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে দেশি রসুনের দাম ১০ টাকা, চায়না আদার দাম ২০ টাকা কমেছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।

এছাড়া মুরগির মাংসের দামে পরিবর্তন এসেছে সামান্য। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির দাম বেড়েছে। কমেছে কক ও লেয়ার মুরগির দাম। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে হুট করেই বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম।
প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা।

এছাড়া ওজন অনুযায়ী ব্রয়লার মুরগি ১৬৫-১৭৫ টাকা, কক মুরগি ২৩৫-২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৩০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা, সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে।

এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রতি কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০-১২ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। কক মুরগির দাম কমেছে ৩-১০ টাকা এবং লেয়ার মুরগির দাম পাঁচ টাকা কমেছে। এছাড়া প্রতি ডজনে ফার্মের মুরগির লাল ও সাদা ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে।

এদিকে ওজন ও মান অনুযায়ী ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-২৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া রুই ৩৫০-৬০০ টাকা, কাতল ৪০০-৮০০ টাকা, বেলে ৮০০-১২০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০-১২০০ টাকা, কাঁচকি ৪৬০ টাকা, কৈ মাছ (চাষের) ২৫০-৩০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-১০০০ টাকা, টেংরা ৬০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরিবর্তিত রয়েছে মুদি পণ্যের দাম। প্রতি কেজি ছোট মসুর ডাল ১৩০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা, প্যাকেট পোলাও চাল ১৫০ টাকা, খোলা পোলাও চাল মানভেদে ১১০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিকেজি প্যাকেটজাত চিনি ১২০ টাকা, খোলা চিনি ১১৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১১৫ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৯ টাকায়।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo