৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ১২:২০

মাকে হত্যার দায়ে ছেলে গ্রেপ্তার

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১২০ সংবাদটি পঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধঃ

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নে মাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে মো. খোকন হাওলাদার ওরফে ইউসুফ (৩৭) ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১০ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে দক্ষিণ বিঘাই গ্রামের নিজ বাড়িতে রিজিয়া বেগম (৫৫) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার সময় রিজিয়া তার স্বামীর ঘরে ইফতারের পর তারাবির নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সময় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১১ মার্চ পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে এবং তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি নিহতের বড় ছেলে মো. খোকন হাওলাদার ওরফে ইউসুফ জড়িত। পরে গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন টিআইসি গেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকের পর তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ভারী কাঠ (স্থানীয় ভাষায় তক্তা) ও একটি লোহার দা জব্দ করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মো. খোকন হাওলাদার জানান, তার মা রিজিয়া বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ, আপন বোনকে বিষ প্রয়োগে হত্যা এবং তার বাবাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার মনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি পরিকল্পিতভাবে মাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার এক দিন আগে তিনি গাজীপুর থেকে পটুয়াখালী রওনা হন।
ইফতারের পর বাবা ঘরে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ঘরে প্রবেশ করে প্রথমে কাঠ দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তার মায়ের হাত ভেঙে যায়। পরে উপর্যুপরি আঘাতের মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং দা দিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে একাধিক কোপ দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন। পরে মো. খোকনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের একাধিক টিম ধারাবাহিকভাবে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত পরিচালনা করে।
অবশেষে হত্যার মূল অভিযুক্ত মো. খোকন হাওলাদারকে আটক করা হয়। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা তদন্তে খতিয়ে দেখছি এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না। কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো খবর...
© All rights Reserved © 2025 Rising Barisal
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo